ঢাকা, রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬

সংসদ নির্বাচনের মতো ডাকসু নির্বাচন চাই না: নজরুল

http://bangla.bdnews24.com/politics/article1591773.bdnews
BY  জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 11 Feb 2019 09:52 PM BdST Updated: 11 Feb 2019 10:41 PM BdST

তিনি বলেন, “আমরা বলেছি, ডাকসু নির্বাচন যাতে জাতীয় নির্বাচনের মতো না হয়, বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো না হয়।”

সোমবার ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সাংবাদিকরা প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে একথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ‘ভোট ডাকাতি’ করে জিতেছে বলে বিএনপির অভিযোগ। দলটির নেতাদের দাবি, ব্যালট বাক্সগুলো রাতেই ভরে রাখা হয়েছিল।

তিন দশক পর ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়ার পর ছাত্রদল বলছে, এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে সবার সহাবস্থান নিশ্চিত হয়নি।

নজরুল বলেন, “সরকার ক্ষমতায় আসীন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ সরকারের নিয়োজিত। ফলে দুঃশ্চিন্তার কারণ আছেই।”

নির্বাচনে অংশ নিতে সবার সমান সুযোগ এখনও নিশ্চিত হয়নি বলে তার দাবি।

ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবি পূরণ না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে নজরুল বলেন, “কিন্তু আমরা আশা করব, যে ছাত্র সমাজ আমাদেরকে যুগে যুগে পথ দেখিয়েছে, সেই ছাত্র সমাজ তাদের প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য সর্বশক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়বে।”

এবারের ডাকসু নির্বাচন গণতন্ত্রের পক্ষের ও বিপক্ষের শক্তির লড়াই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাবের নতুন আহ্বায়ক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যদের নিয়ে দুপুরে জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দেন নজরুল। সেখানেই ডাকসু নির্বাচনের তফসিল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান ‍দুদু, এ জে ডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এ কে এম আজিজুল হক, আব্দুল কুদ্দুস, সিরাজউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, নবগঠিত ড্যাবের আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব ওবায়দুল কবীর খান, কোষাষ্যক্ষ একেএম মহিউদ্দিন ভুঁইয়া মাসুম, সদস্য রফিকুল কবির লাবু, আব্দুস সালাম, মোস্তাক রহিম স্বপনও উপস্থিত ছিলেন।

ডাকসু নিয়ে শঙ্কা হাফিজের

ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থান নিশ্চিত না করে তফসিল ঘোষণায় ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক প্রতিবাদ সভায় তিনি বলেন, “ডাকসু নির্বাচনটি জাতীয় সংসদের ভোট ডাকাতির মতো আরেকটি নির্বাচন হবে বলে বোঝাই যাচ্ছে। ছাত্র সমাজের দাবি ছিল, হলগুলোতে ভোট কেন্দ্র না নিয়ে একাডেমিক ভবনে ভোট নেওয়া হোক।”

ছাত্রদলকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলে হাফিজ বলেন, “সহাবস্থানের চিহ্ন মাত্র নেই যেখানে, সেখানে ডাকসু নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হবে।”

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের বিকল্প নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সারা পৃথিবীর মানুষ জানে বাংলাদেশে আইনের শাসন নেই, এখানে গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই, মানবাধিকার নেই।

“দেশনেত্রীর আইনজীবীরাই বলেছেন আইনি প্রক্রিয়ায় তার মুক্তি সম্ভব নয়। এখন একটাই পথ খোলা আছে, যেটা হল রাজপথ উত্তপ্ত করে রাজপথে জনতার সমাবেশ ঘটিয়ে এই সরকারকে গণআন্দোলনের মাধ্যমে বিদায় করতে হবে। এছাড়া অন্য কোনো পরিকল্পনা আমাদের কাজে লাগবে না।”

নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এই প্রতিবাদ সভা হয়।

সংগঠনের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় সভায় বিএনপির আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, শাহ নেসারুল হক, শাহজাহান সম্রাট, ফরিদ উদ্দিন, ভিপি ইব্রাহিম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা শোয়াইব আহমেদ, জাগপার আবু মোজাফফর মো. আনাছ বক্তব্য রাখেন।