ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৭

বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে খালেদার দাঁতের চিকিৎসা

http://bangla.bdnews24.com/politics/article1632263.bdnews
BY  জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক,  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 12 Jun 2019 02:03 PM BdST Updated: 12 Jun 2019 05:06 PM BdST

গত ১ এপ্রিল থেকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের কেবিন ব্লকের ৬২১ নম্বর কেবিনে ভর্তি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদাকে বুধবার দুপুরে একটি মাইক্রোবাসে করে হাসপাতালের ‘এ’ ব্লকে নেওয়া হয়। পরে হুইল চেয়ারে বসিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় চতুর্থ তলায় ডেন্টাল ইউনিটে।

ঘণ্টা দেড়েক পর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আবার তাকে কেবিনে ফিরিয়ে নেওয়া হয় বলে হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক নাজমুল করিম জানান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ডেন্টাল ও ম্যাক্সিলোফেসিয়াল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহমুদা আকতারের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়াকে দাঁতের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।  

পরে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একে মাহবুবুল হক এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “উনার (খালেদা জিয়া) দাঁতে কিছুটা সমস্যা ছিল। ডেন্টাল ডিপার্টমেন্টে তাকে নিয়ে সেটা কারেক্ট করে দেওয়া হয়েছে। নাথিং। আর কিছু না।”

সমস্যাটা কী ছিল জানতে চাইলে পরিচালক বলেন, “উনার একটা সাইডের দাঁতের শার্পনেসের জন্য খেতে অসুবিধা হয়, জিহ্বায় লাগে। সেজন্য ওই দাঁতটি মসৃণ করে দেওয়া হয়েছে। মেশিন দিয়ে দাঁতের শার্পনেসটা গ্রাইন্ডিং করে সমান করে দেওয়া হয়েছে, যাতে জিহ্বায় খোঁচা না লাগে।”

বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) বিএসএমএমইউ ইউনিটের সাবেক সভাপতি ডা. মো. সাইফুল ইসলাম সেলিম পরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা যতটুকু জেনেছি, দেশনেত্রীর মুখের ডান দিকের নিচের পাটির প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় মাড়ির দাঁতগুলো বয়সজনিত কারণে আংশিক ক্ষয়ে গেছে বা ভেঙে গেছে। কিছু চিবানোর সময় আঘাত লাগত, সেজন্য বহুদিন ধরে তার মুখের ঘা শুকাচ্ছিল না।

“হাসপাতাল অথরিটি আজকে ডেন্টাল বিভাগে নিয়ে উনার দাঁত ঘষে ধারালো মাথাগুলোকে ঠিক করে দিয়েছে। তবে দেশনেত্রী এখনো সুস্থ হননি। আজকেও তাকে হুইল চেয়ারে করে ডেন্টাল বিভাগে নেওয়া হয়েছে। আমরা দাবি করব, তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হোক, তিনি যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসেন।”

বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সহ সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, “বেগম  খালেদা জিয়ার যে দুইজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক আছেন, তাদের না জানিয়ে হঠাৎ করেই আজ দাঁতের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হল। যে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে সেটা সাময়িক চিকিসা, তার দাঁতের সমস্যার স্থায়ী চিকিৎসা প্রয়োজন।”

ড্যাবের নেতা নজরুল ইসলাম, মোহাম্মাদুল্লাহ মোস্তফা, মনোয়ারুল কাদির লিটু, মহিলা দলে সাবিনা ইয়াসমিনও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের সাজা খাটছেন খালেদা জিয়া। ৭৪ বছর বয়সী এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসসহ বয়সজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুল হক রোজার ঈদের সপ্তাহ খানেক আগে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, মুখে জিহ্বায় ঘা হওয়ায় খালেদা জিয়ার খেতে সমস্যা হচ্ছিল। তবে তা অনেকটাই সেরে গেছে।

মাহবুবুল হক সেদিন বলেছিলেন, মুখের ওই ঘা মারাত্মক কিছু না। অনেকেরই তা হয়। অনেক সময় ছত্রাকের সংক্রমণে ঘা হয়। আবার দাঁতের কারণেও তা হতে পারে। প্রয়োজনে বিষয়টি তারা পরীক্ষা করে দেখবেন। 

বুধবার খালেদা জিয়াকে দাঁতের চিকিৎসা দেওয়ার পর তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়েও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হাসপাতালের পরিচালক।

তিনি বলেন, “উনার শারীরিক অবস্থা বেশ ভালো। উনি যাওয়ার সময়, ওঠার সময় আপনারাও দেখেছেন, উনি ভালো আছেন। উনি (হাসপাতালে) আসার দিন যা অবস্থা ছিল, ইনশাল্লাহ (এখন) অনেক অনেক বেটার।”

মাহবুবুল হক জানান, বিএনপি নেত্রীর ডায়াবেটিস এখন নিয়ন্ত্রণে আছে, তিনি নিয়মিত ইনসুলিন নিচ্ছেন।

দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছিল পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কের পরিত্যক্ত কারাগারে। চিকিৎসার জন্য তাকে গত ১ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সরকারের তরফ থেকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে, সুস্থ হলে খালেদাকে আর পুরনো কারাগারে ফেরানো হবে না। তার জন্য কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

কবে তাকে কেরানীগঞ্জে নেওয়া হতে পারে- তা হাসপাতালের পরিচালকের কাছে জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা।

উত্তরে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমাদের ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ অথবা আইজি প্রিজনস থেকে কোনো তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের কিছু বলার সুযোগ নেই। আমরা জানি না। কোনো নির্দেশনা এখনও পাইনি।”

হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক নাজমুল করিম এবং উপ-পরিচালক খুরশীদ আলমও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।