ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

বাকৃবিতে সাংবাদিকের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

http://dainikamadershomoy.com/education/170835/বাকৃবিতে-সাংবাদিকের-ওপর-ছাত্রলীগের-হামলা
BY  বাকৃবি প্রতিনিধি ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০৭ | আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও মারামারির সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে কালের কণ্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আবুল বাশারকেমারধর করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের গেস্টরুমে এ ঘটনা ঘটে।

আহত সাংবাদিককে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

হল সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের গেস্টরুমে দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রলীগকর্মী প্রথম বর্ষের এক কর্মীকে থাপ্পড় দেন। এ ঘটনায় প্রথম বর্ষের কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন বুধবার রাতে গেস্টরুমে যেতে আপত্তি জানান। এতে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রলীগকর্মীরা প্রথম বর্ষের কর্মীদের ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ছাত্রলীগের হল শাখার সিনিয়র নেতারা এসে বিষয়টি মিমাংসা করেন। এর কিছুক্ষণ পর আবার প্রথম এবং দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রলীগকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক কালের কন্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এবং বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবুল বাশারকে দ্বিতীয় বর্ষের প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন ছাত্রলীগকর্মী চড়াও হয়ে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এ সময় হল ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতারা বাশারকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।

ঘটনার পরপরই বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি শাহরিয়ার মনির, বাশারকে শাসিয়ে বলেন, ‘তুমি কেনো এখানে এসেছ? কেনো তুমি হলের খবর বাইরে দেবে? হলের নিউজ করতে হলে হলের সিনিয়র নেতাদের অনুমতি নিতে হবে।’ তবে পরবর্তীতে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে শাহরিয়ার মনির তা অস্বীকার করেন।

এরপর বাশারকে রাত ১২টার দিকে বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিশ্ববিদ্যালয় হেলথ কেয়ার সেন্টারে নিয়ে যান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের জরুরী বিভাগে নেওয়া হয় এবং এরপর সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করানো হয়।

পরে বাকৃবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মারুফ বাশারকে দেখতে হাসপাতালে যান। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় মিয়া মোহাম্মদ রুবেল দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঘটনায় ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মারধরের ঘটনায় বুধবার রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শংকর কুমার দাশকে বারবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে বৃহস্পতিবারে তিনি সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এসে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমানকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি ভ্রুক্ষেপই করেননি। পরে বৃহস্পতিবার ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি একান্তই হলের ব্যাপার, এ বিষয়ে আমার কিছুই করার নেই। তবে লিখিত অভিযোগ দিলে আমি ব্যবস্থা নিতাম।’

এ বিষয়ে বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি শাহীদুজ্জামান সাগর বলেন, ‘সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর হামলা ন্যাক্কারজনক ঘটনা। প্রশাসনের নীরবতার ঘটনায় নিন্দা জানাচ্ছি। ঘটনাস্থলে সিসি ক্যামেরা ছিল। আমরা ফুটেজের মাধ্যমে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’