ঢাকা, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৫
BYহাসিনা বেগম, জাপান থেকে

শীত মৌসুমে বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জের ঘুড়ি উড়ানো নিত্য নৈমিত্তিক এবং সাধারণ একটি ব্যাপার হলেও ঢাকায় তা উৎসব আকারে ঢাকঢোল পিটিয়ে আয়োজন করা হয়ে থাকে। মিডিয়াতে তা প্রচারও পেয়ে থাকে।

আর সেই রকম একটি আয়োজন যদি জাপানের মতো দেশে ব্যস্ততম জীবনে প্রবাসীদের আয়োজনে হয়ে থাকে, তখন প্রবাসীদের মাঝে যে ব্যাপক সাড়া জাগাবে- তা বলাই বাহুল্য।

পুরান ঢাকার নারিন্দার সন্তান কামাল উদ্দিন টুলু  দীর্ঘদিন জাপান প্রবাসী। দুই ছেলে হিরোকি, নাওকি এবং স্ত্রী (জাপানিজ) আকিকোকে নিয়েই তার সংসার। প্রবাসীদের সন্তান অর্থাৎ জাপানে আমাদের দ্বিতীয় প্রজন্মকে নিয়ে তার বেশ স্বপ্ন। যেহেতু তার নিজের ঘরেও দুটি সন্তান রয়েছে- তাই স্বপ্ন দেখেন কিভাবে তাদের বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি শিখিয়ে শেকড়ের সান্নিধ্যে আনা যায়।

তাদেরই আয়োজনে টোকিওর সন্নিকটে সাইতামার অমিয়া শহরে এই ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল ১১ জুন।

ঘুড়ি উৎসব আয়োজনে পেছনের কারণ সম্পর্কে টুলু এবং আকিকো দম্পতি জানান,  জাপানে প্রবাস প্রজন্ম নামে একটি সংগঠন রয়েছে। যেখানে দ্বিতীয় প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, কৃষ্টি, ইতিহাস এবং ঐতিহ্য শেখানো হয় এবং উৎসাহিত করা হয়।

ঘুড়ি উৎসবের এই আয়োজনে টোকিও থেকে  বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী ও আঞ্চলিক সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতি ও পদচারণা উৎসবে ভিন্ন মাত্রা পায়।

অতিথিদের আপ্যায়নে পুরান ঢাকার ঐতিহ্য প্রাধান্য পায়। কাঁঠাল পাতার দাওনায় টুলুর বিরিয়ানি, জিলাপি, গজা, বাখরখানি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

শিশু-কিশোরদের হৈহল্লা, বড়দের আড্ডা, খোলা মাঠে ঘুড়ি ওড়ানো, সব মিলিয়ে স্মরণ রাখার মতো অন্যরকম কনকনে শীতের একটি দিন কাটে ব্যস্ততম প্রবাস জীবনে।

(ঢাকাটাইমস/১৩ফেব্রুয়ারি/প্রতিনিধি/এলএ)