ঢাকা, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮, ১১ আষাঢ় ১৪২৬
BYমিনহাজ ইসলাম

বিশ্বকাপ ফুটবলের সেই জমজমাট আসর আসন্ন। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা করা নিয়ে তর্কযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পাড়া মহল্লায়। এ যেন মাসব্যাপী ঈদ উদযাপন! উৎসবের আমেজ এমনটাই চারিদিকে। এই বিশ্বকাপ ফুটবল দ্বৈরথ যেমন অনেক স্মরণীয় মূহুর্তের জন্ম দিয়েছে ঠিক তেমনি সৃষ্টি করে গেছে কিন্তু অনেক বিতর্কেরও। যা এখনো মুখরোচক ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝে। ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই হাত দিয়ে করা গোল থেকে ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব রাশিয়া এবং কাতারকে উপহার দেওয়া পর্যন্ত অসংখ্য বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এই বিশ্বকাপ। কোনো কোনো সময় দেখা যেতো সেইসব ঘটনাসমূহের কাছে টুর্নামেন্টের বিজয়ী দলের সাফল্যগাথা কিংবা সেরা খেলোয়াড়দের পারফর্মেন্সও একরকম গৌণ হয়ে গিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচ ফিক্সিং (২০০২)

২০০২ এ জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপে কলঙ্কের ছাপ পড়ে যখন সারা বিশ্বে আলোড়ন ওঠে দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে। সত্যি বলতে গোটাবিশ্বই ভড়কে যায় দক্ষিণ কোরিয়ার আশাতীত পারফর্মেন্সে। রেফারি-লাইন্সম্যানদের প্রবল বিতর্কিত কিছু ডিসিশান থেকে অসম্ভব রকমের লাভবান হয় দক্ষিণ কোরিয়া। রাউন্ড অফ সিক্সটিন পর্বে দক্ষিণ কোরিয়া মুখোমুখি হয় ইউরোপিয়ান জায়ান্ট ইতালির। ম্যাচটিতে ইকুয়েডরের রেফারি বাইরন মোরেনো একটি ক্লিন গোল থেকে বঞ্চিত করে দেন ইতালিকে; সেইসাথে ডাইভিং এর এক খোড়া অজুহাতে ইতালির সেবারের প্রধান ভরসা ফ্রান্সেসকো টট্টিকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। র‍্যাংকিং এর তলানিতে থাকা আয়োজক দেশ সাউথ কোরিয়া অতিরিক্ত সময়ে গোল্ডেন গোলের মাধ্যমে ২-১ গোলে জিতে সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

সাউথ কোরিয়াকে নিয়ে সেবারের ফিক্সিং বিতর্ক এখানেই শেষ হতে পারতো কিন্তু তা গড়ায় আরো দূর! প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েই কোরিয়ানরা চমকে দেয় স্পেনকেও। সেই ম্যাচের রেফারিও পক্ষপাতিত্বের এক বড়সড় নমুনা স্থাপন করে বসেন। স্পেনের নিশ্চিত দুইটি ক্লিন গোলকে বাদ দিয়ে দেন মিশরীয় রেফারি গামাল আল গানদোর। শুধু তাই নয় স্প্যানিশ খেলোয়াড়রা পুরো ম্যাচ জুড়ে শিকার হন ধারাবাহিক অফসাইডের। যেখানে অধিকাংশ সময়ই অনসাইডে ছিলো স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডরা। ম্যাচের নিষ্পত্তি ট্রাইবেকারে গড়ালে ৫-৩ এ পেনাল্টি শ্যুটআউট জিতে সেমিতে নাম লেখায় দক্ষিণ কোরিয়া। এখানে যেটা না বললেই নয়, রাউন্ড অফ সিক্সটিন আর কোয়ার্টার ফাইনালের সেই দুই বিতর্কিত রেফারিকে টুর্নামেন্ট শেষ হবার পরপরই অনেকটা জোরপূর্বক অবসর দিয়ে দেওয়া হয়!

ইংল্যান্ড বনাম পশ্চিম জার্মানি ফাইনাল ম্যাচ (১৯৬৬)

বিশ্বকাপের আরেকটি স্মরণীয় ইভেন্ট ছিল ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি। ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে স্বাগতিক দেশকে এক্সট্রা সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আরেকটি উদাহরণ রেখে যান সেই ম্যাচের লাইন্সম্যান। ফাইনাল খেলাটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে ১০১ মিনিটে ব্রিটিশ স্ট্রাইকার জিওফ হার্স্টের পাওয়ারফুল শট গোলবারে লেগে নিচে বাউন্স খায় তবে সেটা নিশ্চিতভাবেই গোললাইনের বাইরে ছিল। সুইস রেফারি গটফ্রাইড ডিস্ট দ্বিধায় পড়ে যান বল কি গোললাইন ক্রস করলো কি না? কিন্তু রাশান লাইন্সম্যান টফিক বাকরামোভ পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সহিত রেফারিকে গোলের সিগন্যাল দেন এবং সেই সাথে ইংল্যান্ড ফাইনাল ম্যাচটিতে এগিয়ে যায় ৩-২ গোলে। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের ব্যবধানের জয় নিয়ে ইতিহাসের প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয় করে ব্রিটিশরা। জার্মান সমর্থকরা এখনো বিশ্বাস করে সেটি গোল ছিল না আর লাইন্সম্যানের সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্তই যে তাদেরকে বঞ্চিত করে আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি থেকে একথা তারা এখনো বলে থাকে।

সন্দেহ আর সংশয়ের বিশ্বকাপ-১

(ঢাকাটাইমস/১৩জুন/এমআই)