ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬
BYইসরাফিল হোসাইন, ঢাকাটাইমস

শুরু হয়েছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব। অনেকের কাছে এটা আবার ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব নামেও পরিচিত। দুই দিনব্যাপী সাকরাইন উৎসবের প্রথম দিনে নানা রংয়ের ঘুড়ি পুরান ঢাকার আকাশে ছেয়ে যায়। সন্ধ্যায় ওড়ানো ফানুসও।

মঙ্গলবার ছিল উৎসবের প্রথম দিন। উৎসবের আমেজ পুরান ঢাকার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর শীতের কারণে কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে।

ভোরবেলা কুয়াশার আবছায়াতেই ছাদে ছাদে শুরু হয় ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব। ছোট-বড় সকলেই মেতেছে এ আনন্দে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে উৎসবের জৌলুস। আর শীতের বিকালে ঘুড়ির কাটাকাটি খেলার উত্তাপ বাড়তি আনন্দ দেয়। মাঝে মাঝে ঘুড়ি কেটে গেলে পরাজিত ঘুড়ির উদ্দেশ্যে ধ্বনিত হচ্ছিল ভোকাট্ট লোট শব্দ।

প্রায় এক দশক আগে প্রতিটি বাড়ির ছাদে ছাদে থাকতে মাইকের আধিপত্য। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আর আধুনিকতার সংস্পর্শে মাইকের স্থান দখল করেছে আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম।

এই উৎসবটি প্রায় ৪০০ বছর ধরে পালন করে আসছে পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্তরের মানুষ। তরুণদের সঙ্গে ছোট-বড় সব বয়স্ক মানুষকে দেখা গেছে নিজ নিজ বাড়ির ছাদে ঘুড়ি ওড়াতে। মেয়েদেরকেও দেখা গেছে ছেলেদের সঙ্গে পাল্টা দিয়ে ঘুড়ি ওড়াতে। কমতি নেই আতশবাজি আর সাউন্ড সিস্টেমের। প্রায় প্রতিটি বাড়ির ছাদেই দেখা যায় ছেলে-মেয়েদের ঘুড়ি ওড়াতে। একই সঙ্গে আতশবাজি ফুটিয়ে বাংলা বছরের পৌষকে বিদায় জানাচ্ছে। সাউন্ড সিস্টেমের সঙ্গে সঙ্গে তাল মিলিয়ে চল নাচ গানের আনন্দও। দেখে মনে হয় এ যেন এক ঈদের আনন্দ।

এদিকে সাকরাইন উৎসবকে স্বাগত জানিয়ে র‌্যালি করেছে বাংলাদেশ ঘুড়ি ফেডারেশন। সকালে অনুষ্ঠিত এ র‌্যালিতে রঙ বেরঙের ঘুরি নিয়ে উপস্থিত হন নারী, পুরুষ শিশুরা।

সাকরাইন উৎসব নিয়ে কথা হয় পুরান ঢাকার সুত্রাপুরের আদনান, আল আমিন, রোকাইয়া, সজিব, তৌকির, সুজন, মেহেদি, নামের কয়েকজনের সঙ্গে। তারা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এই সাকরাইন উৎসব পুরান ঢাকার ঐতিহ্য ও প্রাণের উৎসব। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন থেকেই এ উৎসব পালন করে আসছি। আগে এখনকার মতো সাউন্ড সিস্টেমের গান বাজনা ছিল না। তবে সেসময় ছিল অকৃত্রিম আনন্দ আর ভোকাট্টা লোটের আকাশস্পর্শী শব্দ। আগামীতে আমাদের উত্তর প্রজন্মও এটা পালন করবে। আগে সাকরাইন উৎসব এলে আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো হতো। যা এখন অনেকটাই কমে গেছে।’

তারা আরো বলেন, পাশ্চাত্য সংস্কৃতির ছোবলে বাংলার প্রাচীন অনেক উৎসবের মতো সাকরাইনও হারাতে বসেছে তার মাধুর্য। কমে আসছে সাকরাইন উৎসবের পরিধি। তবে উৎসবের অনুষঙ্গে পরিবর্তন এলেও আমেজ আর আবেগটা এখনো রয়ে গেছে আগের মতো।

(ঢাকাটাইমস/১৪জানুয়ারি/আইএইচ/ইএস)