ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১২ কার্তিক ১৪২৭

মাহমুদুল্লাহকে হারিয়ে ফাইনালে নাজমুল

https://www.dhakatimes24.com/2020/10/17/187730/মাহমুদুল্লাহকে-হারিয়ে-ফাইনালে-নাজমুল
BYক্রীড়া ডেস্ক, ঢাকাটাইমস

আফিফ হোসেন ধ্রুবর ৯৮ রান এবং এরপর বোলারদের নৈপুণ্যে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ ওয়ানডে টুর্নামেন্টের চতুর্থ ম্যাচে আবারো মাহমুুদুল্লাহ একাদশকে হারালো নাজমুল একাদশ। আজ টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্বে লড়াইয়ে নাজমুল একাদশ ১৩১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে মাহমুদুল্লাহ একাদশ।

প্রথম পর্বে মাহমুদুল্লাহ একাদশের বিপক্ষে ৪ উইকেটে জিতেছিলো নাজমুল একাদশ। ৩ ম্যাচ শেষে ২ জয়ে ফাইনালের পথে ভালোভাবে টিকে রইলো নাজমুল একাদশ। আর ৩ খেলায় দ্বিতীয় হার মাহমুদুল্লাহ একাদশের। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৪ রান করে নাজমুল একাদশ। ধ্রুব ৯৮ ও মুশফিকুর রহিম ৫২ রান করেন। এছাড়া শেষদিকে ইরফান শুক্কুর ৩১ বলে অপরাজিত ৪৮ রান করেন।

এ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেন মাহমুদুল্লাহ একাদশের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ব্যাট হাতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয় ঘটে নাজমুল একাদশের। ৩১ রানে ৩ উইকেট হারায় তারা।

পারভেজ হোসেন ইমন ১৯, সৌম্য সরকার ৮ ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৩ রান করে আউট হন। সৌম্য ও শান্তকে শিকার করেন মাহমুদুল্লাহ একাদশের পেসার রুবেল হোসেন। ইমনকে ফেরান আরেক পেসার সুমন খান।

শুরুর ধাক্কা দারুনভাবে কাটিয়ে উঠেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান মুশফিক ও ধ্রুব। মাহমুদুল্লাহ একাদশের বোলারদের পরিকল্পনাকে আয়ত্তে নিয়ে দলের রানের চাকা ঘুড়িয়েছেন মুশফিক-ধ্রুব।

দলের স্কোর ১শ, এরপর দেড়শও অতিক্রম করেন মুশফিক ও ধ্রুব। তাদের ব্যাটিং দৃঢ়তায় লড়াইয়ে ফিরে নাজমুল একাদশ। দলকে বড় স্কোর এনে দেয়ার পথেই ছিলেন মুশফিক ও ধ্রুব।

মুশফিকের পর নেমে সেঞ্চুরির দোড়গোড়ায় পৌছে যান ধ্রুব। কারন ওয়ানডে স্টাইলে খেলছিলেন তিনি। কিন্তু ৩৯তম ওভারের পঞ্চম বলে স্বপ্ন ভঙ্গ হয় ধ্রুবর। সেঞ্চুরি থেকে ২ রান দূরে থাকতে মাহমুদুল্লাহ একাদশের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বলে লেগ বিফোর হন ধ্রুব। ১০৮ বলে ১২টি চার ও ১টি ছক্কায় ৯৮ রান করেন ধ্রুব। চতুর্থ উইকেটে মুশফিকের সাথে ১৪৭ রান যোগ করেন ধ্রুব।

৪২তম ওভারে বিদায় ঘটে মুশফিকেরও। মাহমুদুল্লাহ একাদশের পেসার এবাদত হোসেনের বলে আউট হন তিনি। ধীরলয়ে খেলা মুশফিক, মাত্র ১টি চারে ৯২ বল খেলে নিজের ইনিংসটি সাজান।

দলীয় ১৮৭ রানের মধ্যে মুশফিক-ধ্রুবর আউটের পর নাজমুল একাদশকে লড়াই করার মত পুঁজি এনে দেন তৌহিদ হৃদয় ও শুক্কুর। ব্যাট হাতে ঝড় তুলেন শুক্কুর। ষষ্ঠ উইকেটে হৃদয়-শুক্কুর ৪৬ বলে ৭০ রানের জুটি গড়েন। ২৯ বলে ২৭ রান করে ফিরেন হৃদয়। তবে ৩১ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় অপরাজিত ৪৮ রান করেন শুক্কুর। ফলে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৪ রানের সংগ্রহ পায় নাজমুল একাদশ। মাহমুদুল্লাহ একাদশের রুবেল ৫৩ রানে ৩টি, এবাদত ৬০ রানে ২টি ও সুমন ৫২ রানে ১টি উইকেট নেন।

জয়ের ২৬৫ রানের লক্ষ্যে ভালো শুরু করতে পারেনি মাহমুদুল্লাহ একাদশ। ৪ রান করা ওপেনার ইমরুল কায়েসকে ফিরিয়ে দেন নাজমুল একাদশের পেসার আল-আমিন হোসেন। শুরুর ধাক্কাটা আর সামাল দিতে পারেনি মাহমুদুল্লাহ একাদশ। পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরেন। ৯৭ রানে মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে লড়াই থেকে ছিটকে পড়ে তারা।

বাঁ-হাতি স্পিনার নাসুম আহমেদের ঘুর্ণির সাথে পেসার আবু জায়েদ রাহির বোলিং তোপে স্বীকৃত ব্যাটসম্যানরা বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। লিটন দাস ২৭, মাহমুদুল হাসান ১৩ ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ১১ রান করে নাসুমের শিকার হন। আর মোমিনুল হককে ১৩ ও সাব্বির রহমাকে ১০ রানে বিদায় দেন আবু জায়েদ।

টেল-এন্ডাররাও ব্যর্থতার পরিচয় দিলে ৩২ দশমিক ১ ওভারে ১৩৩ রানে অলআউট হয় মাহমুদুল্লাহ একাদশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান। নাজমুল একাদশের নাসুম ২৩ রানে ৩, আবু জায়েদ ৩৪ রানে ৩ ও রিসাদ আহমেদ ২৬ রানে ২ উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন নাজমুল একাদশের আফিফ হোসেন ধ্রুব।

স্কোর কার্ড (টস- মাহমুদুল্লাহ একাদশ) : নাজমুল একাদশ : ২৬৪/৮, ৫০ ওভার (ধ্রুব ৯৮, মুশফিক ৫২, শুক্কুর ৪৮*, রুবেল ৩/৫৩, এবাদত ২/৬০)।

মাহমুদুল্লাহ একাদশ : ১৩৩/১০, ৩২.১ ওভার (নুরুল ২৮*, লিটন ২৭, নাসুম ৩/২৩, আবু জায়েদ ৩/৩৪)।

ফল : নাজমুল একাদশ ১৩১ রানে জয়ী।

(ঢাকাটাইমস/১৭ অক্টোবর/এআইএ)