ঢাকা, রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭
BYআমীর চারু বাবলু, বোয়ালমারী (ফরিদপুর)

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ১ লাখ ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার ঘর পেলেও সে খবর জানেই না শহর পরিচ্ছন্নকর্মী শাহাদাৎ দম্পতি। ভূমিহীন, অসহায় শাহাদাত ও তার স্ত্রী নার্গিস দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে বোয়ালমারী পৌরসদরের টিনপট্টি এলাকার একটি গণশৌচাগারে। একটু ভালো বসবাসের জন্য তাদের দরকার একটি ঘর।

শাহাদত বলেন, ‘আমার বাড়ি মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলার পাচুড়িয়ায়। জন্মের সময় মার মৃত্যু হয় আর ৬ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে চলে আসি বোয়ালমারীতে। পৈতিক সম্পদ বলে কিছু ছিল না, দারিদ্র্যতার কষাঘাতে এবং জীবিকার তাগিদে শৈশব থেকে কাগজ কুড়িয়ে, মুটের কাজ করে জীবন চালিয়ে নিচ্ছি কোনো মতে, জমি ঘরবাড়ি দূরে থাক নিয়তি ভাড়া বাড়িতেও থাকার ভাগ্য লেখেনি। আবার অনেকে সুইপারের কাজ করি বলে বাড়ি ভাড়াও দেয় না। বোয়ালমারীর পৌরমেয়র মোজাফফর হোসেন বাবলু মিয়া মাস্টার রুলে দৈনিক ১৬০ টাকা বেতনে বাজার ঝাড়ুদারের চাকরি দিয়েছেন এবং বোয়ালমারী হ্যালিপ্যাডে সরকারি জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যদের জায়গা না হওয়ায় জন্য আমি ও আমার স্ত্রী পাবলিক টয়লেট থাকি। এখন বয়স হয়েছে রোগবালাইয়ের জন্য ঠিক মত কাজও করতে পারিনা।’

শাহাদাত এর স্ত্রী নার্গিস বলেন, ‘প্রতিদিন ঝাড়ুর কাজ করার পর মানুষের বাড়িতে কাজ করে যা পাই তাই খাই, আবার কিনেও খাবার খাই, অনেক সময় না খেয়েও দিনযাপন করি। আমাগের একশতাংশ জমিও নাই যে সেখানে একটা ঘর করে থাকব। সরকার ঘর দিচ্ছে তা আমরা জানি না, কেউ কয়ও নাই। অনেকেই আসে খোঁজখবর নিয়ে যায়। কিন্তু আমাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় না। যদি সরকার আমাগের একটা ঘর দিতো জীবনের শেষ দিনগুলো শান্তিতে থাকতাম।‘

(ঢাকাটাইমস/২২জানুয়ারি/পিএল)