ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬

উত্তর প্রদেশে ৩৩৫০ টন নয়, পাওয়া যেতে পারে মাত্র ১৬০ কেজি সোনা

https://www.jagonews24.com/international/news/560917
BYআন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: ০৯:০৮ এএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ভারতের উত্তর প্রদেশের একটি জেলায় দুটি খনিতে ৩৩৫০ টন সোনা মজুতের সন্ধান পাওয়া গেছে-এমন সংবাদ ঘিরে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল তাতে পানি ঢেলে দিল আরেকটি সংবাদ। জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (জিএসআই) জানাল, উত্তর প্রদেশের সোনভদ্রে খনির সন্ধান পাওয়া গেছে ঠিকই, তবে তার পরিমাণ কিছুতেই ৩৩৫০ টন নয়; বড়জোর ১৬০ কেজি সোনা মজুত আছে সেখানে।

শনিবার বিবৃতি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে জিএসআই। ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারের ভূতত্ত্ব ও খনি দফতরের বরাত দিয়ে ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ভারতের উত্তর প্রদেশে দুটি স্বর্ণখনির সন্ধান পেয়েছে ভূতত্ত্ববিদরা। উত্তর প্রদেশের মাওবাদী উপদ্রুত সোনভদ্র জেলায় খনি দুটিতে ৩ হাজার ৩৫০ টন স্বর্ণ মজুত রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। স্বর্ণখনির এলাকা নির্ধারিত সাত সদস্যের একটি টিম গঠন করেছে প্রদেশটির খনি বিভাগ।

সংবাদমাধ্যমের খবরে আরও বলা হয়, দুই দশক ধরে অনুসন্ধান চালানোর পর জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারের ভূতত্ত্ব ও খনি দফতর এ খনির সন্ধান পেয়েছে। ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, খনি দুটিতে প্রায় ৩ হাজার ৩৫০ টন সোনা মজুত রয়েছে, যা ভারতের বর্তমান মজুতের প্রায় পাঁচগুণ। বর্তমানে ভারতে ৬২৬ টন সোনা মজুত রয়েছে।

এক খনি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায়, খনি দুটি থেকে সোনা উত্তোলনের জন্য কোম্পানিকে লিজ দেয়ার কথা ভাবছে সরকার। এজন্য জরিপের কাজ চলমান রয়েছে। সোনভদ্র জেলার সোনাপাহাড়ি এবং হারদি এলাকায় খনি দুটির সন্ধান পাওয়া গেছে। জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (জিএসআই) জানিয়েছে, সোনাপাহাড়ি খনিতে ২ হাজার ৭০০ টন এবং হারদি এলাকায় ৬৫০ টন সোনা মজুত রয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, খনির এলাকা নির্ধারণ ও মজুতের সঠিক অবস্থান জানতে (জিও-ট্যাগিং) ইতোমধ্যে সাত সদস্যের একটি টিম গঠন করেছে উত্তর প্রদেশের খনি দফতর। টিম বৃহস্পতিবার ওই এলাকা পরিদর্শন করেছে।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, ‘ভূতাত্ত্বিক অবস্থানগত কারণে সোনভ্রদ খনিতে সোনা উত্তোলন সহজ হবে। খনি উত্তোলনের দায়িত্ব দিতে সরকার খুব শিগগিরই নিলাম ডাকার প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে। এছাড়া আরও যেসব প্রক্রিয়া আছে তা সম্পন্ন করা হবে।’

ভারতীয় পাক্ষিক ম্যাগাজিন বিজনেস টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনা বাদেও ওই এলাকায় ইউরেনিয়ামের মতো খুবই মূল্যবান খনিজ পাওয়া যায় কি না তা নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তারা। কারণ উত্তর প্রদেশের বুন্দেলখন্দ ও ভিদ্যান জেলায় সোনা, হীরা, প্লাটিনাম, চুনাপাথর, গ্রানাইট, কোয়ার্টস ও চীনামাটির মতো মূল্যবান খনিজ প্রচুর পরমাণে আছে।

জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়াতে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন ড. পৃথিবী মিশ্র। তিনি ২০১১ সালে অবসর নেন। অবসরকালীন তার বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর প্রদেশের সোনভদ্র জেলায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ, ১৮ মিটার পুরু এবং ১৫ মিটার প্রস্থ স্বর্ণের শিলা পাওয়া গেছে।

সোনভদ্রে সোনার খনির খোঁজ মেলার ওই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দেশ জুড়ে হইহই শুরু হয়ে যায়। তবে তাদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে পানি ঢেলে দেয় জিএসআইয়ের একটি বিবৃতি। শনিবার জিএসআই এক প্রেস বিবৃতিতে জানায়, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টে সোনভদ্রের সোন পাহাড়ি ও হরদি এলাকায় ৩ হাজার ৩৫০ টন সোনা পাওয়া যেতে পারে এমন কথা বলা হচ্ছে। এই তথ্য জানিয়েছেন উত্তর প্রদেশের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের রাজ্য কর্মকর্তা। জিএসআই কোনোভাবেই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই তথ্য ও খবরের সঙ্গে জড়িত নয়। উত্তর প্রদেশের সোনভদ্রে এই পরিমাণ বিপুল সোনা সঞ্চিত আছে কি না তা মূল্যায়ন করেনি জিএসআই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সোনভদ্রে খননকার্য চালিয়ে আকরিক সোনার সন্ধান মিলেছে ঠিকই। কিন্তু ওই অঞ্চল থেকে বড়জোর ১৬০ কিলোগ্রাম সোনা পাওয়া যেতে পারে। শুধু তা-ই নয়, সেই সোনার উত্তোলন ব্যবসায়িকভাবেও লাভজনক নয় মোটেই। সে কারণে সেখান থেকে ১ গ্রাম সোনাও তোলা হবে কি না, তা নিয়েই সন্দেহ রয়েছে।

জিএসআইয়ের ডিরেক্টর জেনারেল এম শ্রীধর বলেছেন, সোনার সন্ধানে এই জেলায় গত ১৯৯৮-১৯৯৯ এবং ১৯৯৯-২০০০ সাল পর্যন্ত খননের কাজ চালায় জিএসআই। পরে যাতে আরও খনন কার্য চালানো যায় সেই মর্মে একটি রিপোর্টও পাঠানো হয়েছিল রাজ্যের ডিজিএমকে।

তিনি বলেন, ওই অঞ্চলে সোনার সন্ধানে অনেকদিন ধরেই কাজ করছে জিএসআই। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো রকম সোনার সন্ধান মেলেনি।

শনিবার বিবৃতিতে জিএসআই জানায়, সোনভদ্রে যে খনির সন্ধান পাওয়া গেছে আমরা হিসাব করে দেখেছি, সেখানে ৫২৮০৬.২৫ টন আকরিক রয়েছে। এসব আকরিক প্রতি টনে বড়জোর ৩.০৩ গ্রাম সোনা পাওয়া যেতে পারে। সে হিসাবে, এখানে ১৬০ কিলোগ্রামের মতো সোনা পাওয়া যেতে পারে।

সূত্র: আনন্দবাজার, পিটিআই

এসআর/পিআর