ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

দেশের তিন স্থানে দুদকের অভিযান

https://www.jagonews24.com/national/news/500591
BYবিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা প্রকাশিত: ০৫:০৯ পিএম, ১৬ মে ২০১৯
>>ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট আদর্শ বিদ্যানিকেতনে বাধ্যতামূলক কোচিংয়ের অভিযোগ>>পাসপোর্ট ও জেলা কারাগারের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে ৬ ডিসিকে চিঠি

ঢাকার দোহার উপজেলায় অবস্থিত মৈনট ঘাট এলাকায় স্পিডবোট এবং ট্রলার পারাপারের সময় নিয়ম বহির্ভূতভাবে ইজারা আদায়ের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুদকের একটি টিম সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে উক্ত ঘাটের ইজারা চুক্তি সম্পাদন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কিন্তু গত ১৪ এপ্রিল থেকে ইজারা ব্যতিরেকেই নুরুল ইসলাম নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির পক্ষে অবৈধভাবে প্রতিটি স্পিডবোট ও ট্রলার থেকে ইজারা আদায় করা হচ্ছে। এভাবে প্রতিদিন ১ লাখ টাকা হারে গত এক মাসে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকা যাত্রীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে আদায় করা হয়েছে। দুদক টিম এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যাবলী সংগ্রহপূর্বক কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে।

এছাড়াকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট আদর্শ বিদ্যানিকেতনে শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক কোচিং করানোর অভিযোগে অভিযান চালিয়েছেছে দুদক। সংস্থার অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন - ১০৬) জমা হওয়া অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক প্রধান কার্যালয়ের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম রাজধানীর মানিকদীতে অবস্থিত ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়।

এ সময় তারা অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পান। অভিভাবকরা জানান, কোচিং করানোর নামে শিক্ষার্থীপ্রতি ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। এ সময় অবিলম্বে এ অবৈধ কোচিং বন্ধে প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মালিককে অনুরোধ করে দুদক টিম।

এদিকে বরিশালের বাকেরগঞ্জ পৌরসভার যুব উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, বরিশালের একটি টিম।

দুদক জানিয়েছে তাদের কাছে অভিযোগ আসে, উক্ত কেন্দ্রে প্রতি ব্যাচে ৬০ জন ছাত্রের জন্য থাকা-খাওয়ার জন্য মাথাপিছু ৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু প্রতি ব্যাচে ৬০ জন প্রশিক্ষণার্থী যোগ না দিলেও এই সংখ্যক উপস্থিতি দেখিয়ে টাকা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাৎ করা হয়।

দুদক টিম সরেজমিন অভিযানে দেখতে পান, চলমান ব্যাচে ৬৪ জন ছাত্রের মধ্যে ৪৮ জন নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে ক্লাস করছেন মাত্র ২১ জন। অথচ পূর্ববর্তী সব ব্যাচেই শতভাগ প্রশিক্ষণার্থীর নিবন্ধন দেখানো হয়েছে। এক্ষেত্রে পূর্বের কোর্সগুলোতে ভুয়া প্রশিক্ষণার্থী সাজিয়ে টাকা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করা হয়েছে মর্মে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়ে তারা যাচাইয়ের জন্য সব প্রশিক্ষণার্থীর বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। এ অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের সুপারিশ করে টিম কমিশনে রিপোর্ট পেশ করবে।

এছাড়াও হটলাইনে প্রাপ্ত বিভিন্ন জেলা কারাগার ও পাসপোর্ট অফিসের ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণপূর্বক কমিশনকে অবহিত করার জন্য বান্দরবান, নড়াইল, সাতক্ষীরা, চাঁদপুর, কক্সবাজার ও মেহেরপুরের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) চিঠি দিয়েছে দুদক।

এমইউ/এমএমজেড/এমকেএইচ