ঢাকা, সোমবার, ২১ মে ২০১৮, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
BY  সম্পাদকীয় ১৮ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে আবারও নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। জানা গেছে, এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে চারটি পয়েন্টে পরীক্ষামূলকভাবে পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে অন্তত ৪৫ কোটি টাকা। রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন জরুরি বটে, তবে এর আগে এ লক্ষ্যে বহু টাকা ব্যয়ে বেশ কয়েকটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলেও তা কার্যকর করা যায়নি। ইতিপূর্বে রাজধানীতে চালু করা হয়েছিল স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থা।

ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে সড়কে সিসিটিভি বসানোর কথাও আমরা জানি। কিন্তু সব উদ্যোগই ব্যর্থ হয়েছে। অপচয় হয়েছে অর্থের। বর্তমানে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত হয় মূলত সনাতনী পদ্ধতিতে, অর্থাৎ ট্রাফিক পুলিশের হাতের ইশারা দ্বারা। সিগন্যালের অধিকাংশ বাতিই অকেজো অথবা সচল থাকলেও ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে সেগুলোর কোনো ভূমিকা নেই। এ অবস্থায় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে নতুন প্রকল্প আবারও যে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে না তার নিশ্চয়তা কী?

এক সময় রাজধানীতে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থা ভালোভাবেই কার্যকর ছিল। তখন যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় থাকত। যানজট ছিল কম। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় রাজধানীতে জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পেলেও সে তুলনায় সড়কের সংখ্যা ও পরিসর বাড়েনি। পরিবহন খাতে বেড়েছে অরাজকতা। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হয়ে পড়েছে দুর্নীতিগ্রস্ত। ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নেও এসেছে শৈথিল্য। ফলে রাজধানীর যান চলাচলে বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করেছে। বলা যায়, ভেঙে পড়েছে ট্রাফিক ব্যবস্থা। এ পরিস্থিতিতে ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার আধুনিকায়নে যে প্রকল্পই হাতে নেয়া হোক না কেন, তা বাস্তবায়নের পর যথাযথ কার্যকর করতে হলে প্রথমেই দরকার পরিবহন খাতের অরাজকতা দূর করা। এ ছাড়া প্রয়োজন সড়ক প্রশস্তকরণ, গণপরিবহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। এসব শর্ত পূরণ না করে নতুন প্রকল্পের বাস্তবায়নে আদৌ সাফল্য আসবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।

আমরা মনে করি, রাজধানীর যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে শুধু ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন নয়, গোটা পরিবহন ব্যবস্থায় দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের গাড়ি চালনা রোধ করতে হবে। প্রতিটি যানকে নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য করতে হবে। গণপরিবহন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। রাজধানীর সড়ক থেকে ছোট বাস বা মিনিবাস উঠিয়ে দিয়ে অধিকসংখ্যক বড় বাস নামানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এতে যানবাহনের সংখ্যা কমলেও বেশিসংখ্যক যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। অন্যদিকে চাপ কমবে সড়কের ওপর। রাজধানীর যানজট নিরসনে এসবের কোনো বিকল্প নেই।