ঢাকা, রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে স্ক্যান মেশিন পরিচালনায় অনিশ্চয়তা

http://www.kalerkantho.com/online/2nd-capital/2018/04/21/627523
BYআসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কনটেইনার পণ্য স্ক্যান নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্ক্যান মেশিন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামীকাল রবিবার। কিন্তু রবিবারের পরে কারা স্ক্যান মেশিন পরিচালনা করবে তা চূড়ান্ত করতে পারেনি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ফলে কনটেইনার স্ক্যান মেশিন পরিচালনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটে (সিপিটিইউ) এসংক্রান্ত একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযাগের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন চুক্তি সম্পাদনের নোটিশ জারি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছে সরকারের এই দপ্তরটি। উল্লেখ্য, আমদানি-রপ্তানি পণ্যে নিষিদ্ধ, বিস্ফোরক পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত করা, ভুয়া ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি বন্ধ করা এবং রাজস্ব ফাঁকি ঠেকানোর জন্য বন্দর গেটে স্ক্যান মেশিন স্থাপন করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কমিশনার ড. এ কে এম নুরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন অপারেটর নিয়োগ চূড়ান্ত করার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রণালয়। কিন্তু সিপিটিইউর রিভিউ আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আপাতত নতুন অপারেটরের সঙ্গে চুক্তি করতে পারছি না। রিভিউ নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’ ২২ এপ্রিলের পর থেকে কাস্টমস নিজেরা স্ক্যান মেশিন পরিচালনা করবে জানিয়ে কমিশনার বলেন, ‘প্রথম দিকে হয়তো কিছুটা সমস্যা হবে। তবে সময়ে সে সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারব। এ ক্ষেত্রে ফাইভ আর অ্যাসোসিয়েটস অপারেটর প্রতিষ্ঠান ও এসজিএস থেকে বিনা মূল্যে বিশেষজ্ঞ সহায়তা নেব।’ কাস্টমস নিজেরাই স্ক্যান মেশিন পরিচালনা করতে পারবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা কাস্টম হাউসে আমরা নিজেরাই মেশিন পরিচালনা করছি, সুতরাং এখানে কেন পারব না?’ সুইজারল্যান্ডভিত্তিক এসজিএস কম্পানির স্ক্যান ম্যানেজার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২২ এপ্রিল রাত ১২টায় আমাদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বিষয়টি কাস্টমসকে অবহিত করেছি। কার্যক্রম হস্তান্তর করার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পাইনি। স্ক্যানিংয়ের মতো এত স্পর্শকাতর বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্তই নিতে না পারা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। কারণ স্কানিংয়ের সামান্য হেরফের বা সঠিক পরিচালনা না হলে বড় ধরনের চোরাচালান ঘটতে পারে।’ জানা গেছে, ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে আমদানি-রপ্তানি পণ্যে বাধ্যতামূলকভাবে স্ক্যানিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি স্ক্যানিং মেশিন সংকটের কারণে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের ১২টি গেটের মধ্যে মাত্র চারটি গেটে স্ক্যানিং মেশিন বসাতে পেরেছে কাস্টমস। এর মধ্যে একটিতে লাগানো আছে মোবাইল বা ভ্রাম্যমাণ স্ক্যানার। সবগুলো মেশিন চালাতে চুক্তিভিত্তিক কাজ করছে এসজিএস। চারটি স্ক্যানারের মধ্যে একটি মোবাইল স্ক্যানার পরিচালনার মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের অক্টোবরে। বাকিগুলোর পরিচালনার মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ২২ এপ্রিল। বর্তমানে তিনটি মেশিন দিয়ে কেবল ৫৫ শতাংশ পণ্য স্ক্যান করা সম্ভব। এই চারটি মেশিন পরিচালনা করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছিল গত নভেম্বরে। উচ্চ আদালতে মামলার কারণে সেই দরপত্র স্থগিত হয়ে যায়। পরে কৌশল বদলে কাস্টমস স্থানীয়ভাবে দরপত্র আহ্বান করে। এর বিরুদ্ধেও উচ্চ আদালতে মামলা করে এসজিএস। কিন্তু সেই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। এরই মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ে নতুন অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া চালিয়ে যায় কাস্টমস। অপারেটর নির্বাচিত করে অনুমোদনের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠায়। এরই মধ্যে গত ১৭ এপ্রিল সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনক্যালি ইউনিটে (সিপিটিইউ) এসজিএসের পক্ষ থেকে রিভিউ প্যানেল বরাবর এসংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়ে। সেই অভিযাগের পরিপ্রেক্ষিতে চুক্তি সম্পাদনের নোটিশ জারি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করে চিঠি দেয় সিপিটিইউ। এই চিঠির পর থেকে কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।