ঢাকা, সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

বৃষ্টি উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম মুখর শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায়

http://www.kalerkantho.com/online/2nd-capital/2018/06/14/647814
BYনূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আর এক দিন পর শনিবার অথবা পরের দিন রবিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হবে। প্রতিবছর ঈদের আগে আগে অর্থাৎ রমজানের শেষ দিকে অনেকে কেনাকাটা করে থাকে। কিন্তু গত চার দিনের টানা বৃষ্টির কারণে এখনো অনেকে ঈদের কেনাকাটা করতে পারেনি।

গতকাল বুধবারও চট্টগ্রামের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল, সেই সঙ্গে দফায় দফায় বৃষ্টি। কিন্তু সন্ধ্যার পর বৃষ্টি উপেক্ষা করেই লোকজন ঈদের কেনাকাটায় নামে। তাতে সরগরম হয়ে ওঠে বন্দরনগর চট্টগ্রামের ঈদ বাজার।

গতকাল নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, নামি-দামি শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাতসহ ছোট-বড় প্রায় সব মার্কেটেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চলছে সব জায়গায় শেষ মুহূর্তের বিকিকিনি। অনেকে বৃষ্টিতে ভিজেও কেনাকাটা করছে। মার্কেটের পাশাপাশি অলিগলির দোকানগুলোতেও চলছে পুরোদমে কেনাকাটা। এভাবে পুরো নগরটাই যেন এখন ঈদ মার্কেট। সব জায়গায়ই ক্রেতাদের ভিড়।

ব্যবসায়ীদের আশা, গতকাল থেকে বাড়া কেনাকাটা চাঁদরাত পর্যন্ত চলবে। এবার রমজানের শেষ দিকের বিক্রি বৃষ্টির কারণে আশানুরূপ হয়নি। তবে গতকাল থেকে বিক্রি বাড়ায় ব্যবসায়ীরা খুশি। ব্যবসায়ীদের মতে, সামনের দু-এক দিন আশানুরূপ বিক্রি না হলে তাদের বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হতে পারে। ক্রেতার এই ভিড় এখন প্রতিদিন সকাল থেকে সাহরির আগ পর্যন্ত চলবে। রাত-দিন সমানে ক্রেতা থাকবে বলে তাদের বিশ্বাস।

গতকাল সকাল ৯টায় নগরের জহুর হকার মার্কেট থেকে কেনাকাটা করে সড়কের বিপরীত পাশে তামাকুমণ্ডি লেনে আরো কিছু কিনতে যাচ্ছিলেন শামসুল আলম। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, সিডিএ আবাসিক এলাকায় আমাদের বাসার সামনের সড়কে তিন দিন ধরে পানি। এ কারণে পরিবারের জন্য কিছুই কিনতে পারিনি। তাই আজ সবার জুতার মাপ এনে এবং হোয়াটসঅ্যাপে পোশাকের ছবি পাঠিয়ে সবার পছন্দমতো কেনাকাটা করেছি। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে আর কত দিন অপেক্ষা করব।

শামসুল আলম আরো বলেন, সকাল ৮টায় বাসা থেকে বের হয়ে এখানে এসেছি। জহুর মার্কেট থেকে ছেলেদের জন্য কিনেছি। এখন তামাকুমণ্ডি লেনে যাচ্ছি। ওখানেও কিছু কেনাকাটা করব।

পাশের রিয়াজুদ্দিন বাজারের মুখে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামার সময় এক যাত্রী চালককে আশপাশে থাকতে বলেন। পরিচয় পেয়ে সেলিম নামের ওই ব্যক্তি বলেন, কখন যে বৃষ্টি আসে ঠিক নেই। এখানে আসতে গাড়ি পাচ্ছিলাম না। আগ্রাবাদ চৌমুহনীর মোড়ে আধাঘণ্টা দাঁড়িয়ে এই অটোরিকশাটা পেয়েছি। বৃষ্টি এলে আবার গাড়ি পাব না। তাই একটু ভাড়া বাড়িয়ে দিয়ে হলেও ঠিক সময়ে যাতে বাসায় যেতে পারি, তাই চালককে মোবাইল ফোন নম্বর দিয়েছি। ডাকলে আসবে বলেছে।

সকাল সাড়ে ১১টায় নিউ মার্কেট থেকে কেনাকাটা করে পরিবার নিয়ে রাস্তায় দাঁড়ানো রফিক আহমেদ বলেন, প্রতিবছর ২৪-২৫ রমজানে ঈদের বাজার করি। কিন্তু এবার বৃষ্টির কারণে বের হতে পারিনি। আজ সকালে বাজার করতে এসে মনে করেছি ভিড় কম হবে। কিন্তু চিত্র পুরোপুরি উল্টো।

ফুটপাতে গার্মেন্টসামগ্রী বিক্রেতা শাহ আলম বলেন, ‘গত তিন দিনে ১০ হাজার টাকাও বিক্রি হয়নি। আজকে (গতকাল) এখন পর্যন্ত ছয় হাজার টাকা বিক্রি করেছি। বিক্রি না হলে বড় লস হবে।’

দুপুর ১২টার দিকে জিইসি মোড়ে দাঁড়ানো শাব্বির আহমেদ নামের এক যুবক বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় এখান থেকে কেনাকাটা করেছি। কেনাকাটা কিছু বাকি ছিল। তাই আজকে সকালে আবার এসেছি। ঈদ করতে বৃহস্পতিবার বিকেলে চাঁদপুরে গ্রামের বাড়ি যাব।’

এদিকে মার্কেটের আশপাশে বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ যানজট দেখা যায়। যানজটের কারণে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতাদের চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

এ ছাড়া গতকাল নগরের অভিজাত বিপণিবিতান নিউ মার্কেট, সানমার ওশান সিটি, ভিআইপি টাওয়ার আমিন সেন্টার, ইউনেসকো সেন্টার, আখতারুজ্জামান সেন্টার, সেন্ট্রাল প্লাজা, লাকী প্লাজা, টেরিবাজার, গুলজার টাওয়ার, মতি টাওয়ার, মতি কমপ্লেক্স, আফমি প্লাজা, চিটাগং শপিং কমপ্লেক্স, মিমি সুপারমার্কেটেও ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে।