ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৬

আ. লীগ নেতাদের তুমুল বিতণ্ডা

http://www.kalerkantho.com/online/2nd-capital/2018/06/22/649782
BYনিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিয়ে তুমুল বিতণ্ডা হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভায় ওই বিতণ্ডা হয়। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, একই কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান মো. আবদুচ ছালামসহ কয়েকজন নেতা বিতণ্ডায় জড়ান বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র মতে, নগরের দারুল ফজল মার্কেটে দলীয় কার্যালয়ে বিকেল ৫টার দিকে ওই সভা শুরু হয়। সভায় জলাবদ্ধতা নিয়ে কোনো আলোচ্যসূচি ছিল না। নির্ধারিত আলোচ্যসূচিগুলো নিয়ে আলোচনার শেষ দিকে এসে সংগঠনের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন তাঁর বক্তব্যে নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতাসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নাগরিক দুর্ভোগ নিয়ে মানুষের সমালোচনার বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে এই বক্তব্যের সূত্র ধরে জলাবদ্ধতা ইস্যুটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন কয়েকজন নেতা।

সভায় উপস্থিত ছিলেন এমন এক নেতা জানান, বক্তব্যে খোরশেদ আলম সুজন বলেন, তাঁরা সরকারি দলের হলেও তাঁদের কিছু সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে। তাঁদের জনগণের মুখোমুখি হতে হয়। বর্তমানে তিনটি সমস্যায় নগরবাসী জর্জরিত—আইন-শৃঙ্খলা, ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট ও জলাবদ্ধতা। রাস্তাঘাট ঠিক করার দায়িত্ব মেয়রের। তিনি দলের নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক। জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী সিডিএকে দিয়েছেন। সিডিএর চেয়ারম্যান এই কমিটির কোষাধ্যক্ষ। সুজন বলেন, ‘আপনাদের বলতে হবে, আপনারা কখন এই সমস্যার সমাধান করবেন। জলাবদ্ধতা নিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেছেন, আগামী বছরের মধ্যে সমাধান হবে। আদৌ কি এটা সম্ভব?’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সুজনের বক্তব্যের পর সিডিএ চেয়ারম্যান দাঁড়িয়ে দাবি করেন, আগামী বছরের মধ্যে জলাবদ্ধতা সংকটের সমাধান হবে এমন কথা তিনি বলেননি। তখন মেয়রসহ সভায় উপস্থিত কয়েকজন নেতা এর প্রতিবাদ করে বলেন, সিডিএ চেয়ারম্যানের বক্তব্য পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। মূলত এর পর মেয়র ও সিডিএ চেয়ারম্যানের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সভা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শেষ দিকে সিডিএ চেয়ারম্যান আবারও বক্তব্য দিতে চাইলে সভাপতি তাঁকে সুযোগ না দিয়েই সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে সভা শেষ করে দেন।

সূত্র মতে, সভায় সিডিএ চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, জলাবদ্ধতা নিয়ে সিটি করপোরেশন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। জবাবে মেয়র বলেন, সিডিএ চেয়ারম্যানের বক্তব্যের কারণে মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। এতে সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন তাঁর বক্তব্যে বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে বাস্তব সমস্যা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। বাস্তবায়ন সম্ভব নয় এমন কোনো আশ্বাস কিংবা রাতারাতি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখানো ঠিক হবে না।

সভাপতির বক্তব্যে নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির উত্থানকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিতে হবে।

সভায় ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন এবং ঢাকায় দলের বিশেষ বর্ধিত সভায় অংশগ্রহণ, ২৭ জুন মহানগর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান, ১ জুলাই সাবেক মন্ত্রী জহুর আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী পালনসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় আরো বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সুনীল সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী, বদিউল আলম ও এম এ রশিদ।