ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

কারণ ওয়াসার সংযোগ লাইনে ছিদ্র!

http://www.kalerkantho.com/online/2nd-capital/2018/07/23/661166
BYনিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরসহ আশপাশের এলাকায় জন্ডিস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনার কারণ ওয়াসার সংযোগ লাইনের ছিদ্র। ওই এলাকায় জন্ডিস মারাত্মক আকার ধারণ করলে একাধিক তদন্ত কমিটি করা হয়। ওয়াসার পাইপলাইন ছিদ্র হয়নি বলে সংস্থাটি জানিয়ে আসছিল। শেষ পর্ষন্ত বিভিন্ন স্থানে ওয়াসার পাইপ লাইনের ছিদ্র দিয়ে দূষিত পানি মিশে যাওয়াতে জন্ডিস ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কয়েকটি দাতা সংস্থার যৌথ উদ্যোগে প্রায় এক মাস জরিপ চালিয়ে যে প্রতিবেদন দিয়েছে সেখানে এই কথাই বলা হয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একটি সভায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন সভায় সভাপতিত্ব করেন।

জানা যায়, সভায় সিটি করপোরেশন, সিভিল সার্জন কার্যালয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আইইডিসিআর, আইসিডিসিআর, আইসিডিআরবি, ওয়াসাসহ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এসব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে যৌথভাবে ওই জরিপ করা হয়।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জরিপ প্রতিবেদনে বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। এর মধ্যে হালিশহরের বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার পাইপলাইন ছিদ্রের বিষয়টি আছে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ছিদ্র দেখার পরপরই তা মেরামতের কাজ শুরু করেছে। জন্ডিস আগের চেয়ে কমেছে। তার পরও এলাকায় জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আমাদের যাবতীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’ ডা. সেলিম আরো বলেন, পাইপের ছিদ্র দিয়ে ময়লা পানি প্রবেশ করেছে—এটা পুরোপুরি বলা যাবে না। কারণ জোয়ার ও জলাবদ্ধতার পানিও আছে। তবে সংস্থাগুলো এটা বলছে ওয়াসার নিজস্ব রিজার্ভারের পানির সঙ্গে বাইরের পানিও যুক্ত হয়েছে। এটাকে তারা অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে।

ওই সভায় সিটি মেয়র ক্রস ড্রেইনের মধ্য দিয়ে যাওয়া ওয়াসার সংযোগ লাইনে পানির দূষণ প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্টদের। এ ছাড়া বাড়ির মালিকদের তাঁদের রিজার্ভার ওয়াসার নির্দেশিত পন্থায় ব্লিচিং পাউডারের মাধ্যমে পরিষ্কার করার অনুরোধ জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নগরীর হালিশহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পানিবাহিত হেপাটাইটিস-ই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে শুরু করেন বাসিন্দারা। ইতিমধ্যে সরকারি হিসেবেই জন্ডিসে আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে জানানো হয়েছে।