ঢাকা, সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

খালেদাকে গ্রেপ্তার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় পেছাল

http://www.kalerkantho.com/online/Court/2018/01/14/589311
BYআদালত প্রতিবেদক    

যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মানহানি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল হওয়া সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে আসেনি। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।

আজ রবিবার পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও গুলশান থানা কোনো প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার মহানগর হাকিম নূর নবী পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেন।

আরো পড়ুন:সিপিডি বাংলাদেশকে নিচে নামাতে ব্যস্ত : অর্থমন্ত্রী

মামলায় সমন জারি করার পরও আদালতে হাজির না হওয়ায় গত বছরের ১২ অক্টোবর খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। একইসঙ্গে ওই সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গুলশান থানাকে নির্দেশ দেন আদালত।

এর আগে গত বছরের ২২ মার্চ মামলার তদন্ত পূর্বক পুলিশের দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে তাঁকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়। অন্যদিকে, মৃত ব্যক্তির বিচারের সুযোগ না থাকায় প্রচলিত আইনের বিধানমতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) এ বি এম মশিউর রহমান সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে অভিযুক্ত করে মামলায় প্রতিবেদন দাখিল করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন। ওই মন্ত্রিপরিষদে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা প্রকাশ্য এবং আত্মস্বীকৃতরূপে পাকিস্তানের দোসর হিসেবে নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, আলবদর, আলশামস কমিটির সদস্যদের নিয়ে মন্ত্রী ও এমপি বানান।

আরো পড়ুন:দেশের মানুষ জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ চায় না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পরবর্তীতে ওই ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন দণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। ‌এর মধ্যে তৎকালীন খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। কিন্তু তারা ক্ষমতায় থাকাকালে মন্ত্রিত্বের সুবিধা নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকা তাদের বাড়ি ও গাড়িতে ব্যবহার করেছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্বাধীনতাবিরোধীদের তার মন্ত্রিসভায় মন্ত্রিত্ব প্রদান করে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকাকে স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে তুলে দিয়ে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক জনগণের মর্যাদা ভুলুণ্ঠিত করেছেন। আসামির বিরুদ্ধে মামলায় বাদীর আনা দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় মানহানির অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

২০১৫ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী মামলাটি করেন। ওইদিন তেজগাঁও থানার ওসিকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলায় বলা হয়, '১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ৭ নভেম্বর সিপাহী বিপ্লবের মাধ্যমে সামরিক সরকারের দায়িত্ব দখল করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছেন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসলে তাকে হুমকি দিয়ে তার বাবার বাড়িতে প্রবেশ করতে দেননি।'

এতে বলা হয়, 'এ ছাড়া খালেদা জিয়া ২০০১ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করে স্বাধীনতাবিরোধী আলবদর রাজাকারদের হাতে মন্ত্রিত্ব তুলে দেন। যার মাধ্যমে স্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার মানহানি ঘটিয়েছেন।'