ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৬

এবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ দুজনের হাইকোর্টে জামিন বহাল

http://www.kalerkantho.com/online/Court/2018/12/07/711852
BYনিজস্ব প্রতিবেদক   

অর্থ পাচারের (মানি লন্ডারিং) অভিযোগে মামলাসহ বিশেষ আইনের কোনো মামলায় জামিন আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলেছেন হাইকোর্ট। বিচারিক মনন সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে। একইসঙ্গে আরব-বাংলাদেশ (এবি) ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক ও কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামালের জামিন বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের বৃহত্তর হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবারব গরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এ রায় দেন।

তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর বেঞ্চের সিনিয়র দুই বিচারপতি জামিন বহাল রাখার পক্ষে রায় দেন। আর কনিষ্ঠ বিচারপতি জামিন বাতিল করে রায় দেন। ওয়াহিদুল হক ও কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামালের জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় দেন আদালত।

আদালতে দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন আসাদুর রউফ ও শেখ বাহারুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।

সিনিয়র দুই বিচারপতির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, অর্থ পাচারের মত গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ যেখানে জড়িত, সেখানে এ ধরনের মামলায় জামিন আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটকে মামলার এজাহার, বাদী-বিবাদী পক্ষের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিসমূহ যথাযথভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। কেউ জামিন চাইলেন আর দিয়ে দিলেন, এমনটা যেন না হয়। কারণ অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের অপরাধ হোয়াইট কালার ক্রাইমের মত। তাই বিষয়গুলো অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।

কনিষ্ঠ বিচারপতি তার আদেশে বলেন, অর্থ পাচার আইনের ২(ষ)(জ), ৯, ১০ ও ১৩ নম্বর ধারা পর্যালোচনা করলে এটা কাঁচের মত পরিষ্কার যে, ম্যাজিস্ট্রেট এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে তাদের জামিন দিয়েছেন। আইন ভঙ্গ করে স্বেচ্ছাচারমূলকভাবে জামিন দেওয়ায় তা বাতিল করা হল। যদিও এ ধরনের মামলায় জামিন ও রিমান্ডসহ সকল কিছুর এখতিয়ার বিশেষ আদালতকে দেওয়া হয়েছে।

এ বিচারপতি আরো বলেন, অর্থনীতি ও সমাজ ব্যবস্থাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে দুর্নীতি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশের মানুষ সোচ্চার। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জাতীয় সংসদও বেশকিছু আইন প্রণয়ন করেছে। তাই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সরকারকে যেমন কঠোর হতে হবে, তেমনি আদালতকেও সতর্ক থাকতে হবে। সকলে মিলে দুর্নীতিকে কঠোরভাবে মোকাবেলা করতে হবে।

এবি ব্যাংকের একশ ৬৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ওয়াহিদুল হকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে গত ২৫ জানুয়ারি দুদক মতিঝিল থানায় মামলা করে। এ মামলার পর ওইদিনই ওয়াহিদুল হক, আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও সাইফুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মহানগর হাকিম আদালতে নেওয়া হলে আদালত ওয়াহিদুল হক ও মোস্তফা কামালের জামিন মঞ্জুর করেন। আর জ্ঞিাসাবাদের জন্য সাইফুল হককে তিনদিনের পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়। এরপর জামিন বাতিল প্রশ্নে গত ৩১ জানুয়ারি রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই দুইজনের বিদেশ যাবার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এ রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় দেন হাইকোর্ট।