ঢাকা, রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৭

মোদির ‘রহস্যজনক’ কালো ট্রাংক

http://www.kalerkantho.com/online/business/2019/04/16/759217
BYকালের কণ্ঠ অনলাইন   

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হেলিকপ্টারে বয়ে নেওয়া ‘একটি ট্রাংক’ নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে এখন তুমুল বিতর্ক চলছে। প্রধানমন্ত্রী কপ্টার থেকে নামার আগেই ওই ট্রাংকটি তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা তড়িঘড়ি হেলিকপ্টার থেকে নামিয়ে একটি গোপন জায়গায় নিয়ে যায়। কংগ্রেস দল ট্রাংকটিকে ‘রহস্যজনক’ অভিহিত করে নির্বাচন কমিশনের কাছে ওই ‘ঘটনা’র তদন্তের আরজি জানিয়েছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীরও বক্তব্য জানতে চেয়েছেন কংগ্রেস মুখপাত্র আনন্দ শর্মা। ট্রাংকের ভেতরে কী ছিল, জানতে চেয়েছেন তিনি।

‘ট্রাংক’ বিতর্কের সূত্রপাত গত সপ্তাহে। কর্ণাটকের চিত্রদুর্গে ভোটের প্রচারে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে তাঁর হেলিকপ্টার থেকে একটি কালো রঙের ট্রাংক তড়িঘড়ি নামানো হয় বলে অভিযোগ। প্রমাণ হিসেবে শনিবার নিজের টুইটার হ্যান্ডলে ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেন কর্ণাটকের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি দীনেশ গুণ্ডু রাও।

সেই ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার থেকে একটি কালো রঙের ট্রাংক নামাতে দেখা যায় কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষীকে। দৌড়াতে দৌড়াতে সেটি নিয়ে গিয়ে একটি ইনোভা গাড়িতে তুলতে দেখা যায় তাদের। গাড়িটি সঙ্গে সঙ্গে রওনা হয়ে যায়।

টুইটারে ভিডিওটি পোস্ট করে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন দীনেশ গুণ্ডু রাও। তিনি লেখেন, ‘চিত্রদুর্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির হেলিকপ্টার থেকে রহস্যজনক বাক্স নামানো হলো। নিমেষের মধ্যে সেটি নিয়ে উধাও হয়ে গেল একটি বেসরকারি ইনোভায়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত নির্বাচন কমিশনের। বাক্সে কী রাখা ছিল, গাড়িটাই বা কার, সব কিছু তদন্ত করে দেখা হোক। নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করেছে কংগ্রেসের কর্ণাটক শাখা।’

রবিবার গোটা বিষয়টি নিয়ে দিল্লিতে সরব হতে দেখা যায় কংগ্রেস মুখপাত্র আনন্দ শর্মাকে। তিনি বলেন, ‘চিত্রদুর্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হেলিকপ্টারের সঙ্গে আরো তিনটি হেলিকপ্টার ছিল। সেখানে নামার সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রীর কপ্টার থেকে একটি কালো ট্রাংক বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। বেসরকারি গাড়িতে তুলে সঙ্গে সঙ্গে সরিয়েও ফেলা হয় ট্রাংকটি।’ এর পাশাপাশি কংগ্রেস নেতার দাবি, পাঁচ বছরে কী কাজ করেছেন তা প্রধানমন্ত্রী জানান। রাফাল যুদ্ধবিমান প্রসঙ্গেও আক্রমণ শানান তিনি। তিনি বলেন, মোদি রাফাল নিয়ে চুপ কেন? প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফ্রান্সের সাবেক রাষ্ট্রপতির আলোচনা প্রকাশ্যে আনা হোক।

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে যদিও এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে হৈচৈ শুরু হয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভোটের দিন ঘোষণার পর থেকে এরই মধ্যে কয়েক শ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। তাই ওই ট্রাংকেও টাকা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নেটিজেনদের একাংশ। সূত্র : এনডিটিভি, আনন্দবাজার পত্রিকা।