ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৬

সুপারশপের কেনাকাটায় বাড়তি ভ্যাটের চাপ

https://www.kalerkantho.com/online/business/2020/07/12/933793
BYফারজানা লাবনী    

করোনাকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে সুপারশপের বেচাকেনা চলছে। অনেকে আগ্রহ নিয়ে সুপারশপ থেকে বাজার করছেন। ব্যবসায়ীরা বলেন, শুধু সুপারশপ থেকে কিনতে হলে ভোক্তাকে বাড়তি ভ্যাট বা মূসক দিতে হয়। এতে খোলাবাজারের চেয়ে সুপারশপ থেকে একই পণ্য বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বাড়তি দামের কারণে অনেকে সুপারশপে কেনাকাটা করতে আসছেন না।

বাংলাদেশ সুপারমার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, কয়েক বছর থেকে সুপারশপের কেনাকাটায় ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নির্ধারিত আছে। এ ভ্যাটের কারণে একই পণ্য কিনতে ক্রেতাকে বাইরের খোলাবাজারের চেয়ে সুপারশপ থেকে বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়।

একই পণ্য বাইরের চেয়ে সুপারশপ থেকে কে বেশি দাম দিয়ে কিনতে চায় এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বারবার সুপারশপের কেনাকাটায় বাড়তি ভ্যাট প্রত্যাহারে অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আবেদন জানানোর পরও মওকুফ করা হয়নি।

সুপারশপের ব্যবসায়ীরা গত অর্থবছরে এনবিআরের প্রাক-বাজেট আলোচনাকালে লিখিত বক্তব্যে বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনায় রেখে সুপারশপে কেনাকাটা বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একটি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপারশপ থেকে পণ্য সংগ্রহে অন্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো প্রচলিত সব ধরনের শুল্ক কর ও ভ্যাট পরিশোধ করে থাকে। বিক্রি করার পরও সব ধরনের প্রচলিত রাজস্ব পরিশোধ করা হয়। সুপারশপে যন্ত্রের সাহায্যে রাজস্ব আদায় করা হয়। তাই একটি টাকাও রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই।

আবেদনে আরো বলা হয়, সুপারশপের মাধ্যমে গ্রামের কৃষকদের চাষ করা পণ্য সংগ্রহ করা হয়। এখানে মধ্যস্বত্বভোগীর অস্তিত্ব নেই। সুপারশপের সংখ্যা বাড়লে কৃষকের পণ্য বিক্রির সুযোগও বাড়বে। প্রতিটি সুপারশপ কৃষকের কাছ থেকে নায্য দামে পণ্য কিনে থাকে। সুপারশপসংশ্লিষ্ট অ্যাসোশিয়েশনগুলো কৃষকের নায্য দাম পাওয়ার বিষয়গুলো নজরদারি করে থাকে। এতে অনিয়ম হওয়ার সুযোগ কম থাকে। আবেদনে সুপারশপের ৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফের দাবি জানানো হয়।

চলতি অর্থবছরেও রাজস্ব বাজেট প্রস্তাব প্রণয়নের আগে এনবিআরে সুপারশপের কেনাকাটায় ৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফের আবেদন করে সুপারশপসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন।

দেশে প্রায় ২০০ সুপারশপ রয়েছে। এখানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রি হয়। বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে সুপারশপে পণ্য বিক্রি বাধ্যতামূলক। সুন্দর পরিবেশে পণ্য কেনার সুযোগ থাকায় দিন দিন সুপারশপে ক্রেতা বাড়ছে। একসময় সুপারশপে শুধু ধনী ব্যক্তিরা বাজার করতে এলেও এখন আর সে রকম নেই। সচ্ছল পরিবারের অনেকেই এখানে কেনাকাটা করতে আসেন।

বিশেষভাবে করোনার মধ্যে খোলাবাজারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে কেনাকাটা করা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব না হওয়ায় অনেকে সুপারশপে কেনাকাটা করতে আসছেন।

এনবিআর সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবদুল মজিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, উন্নত দেশগুলোতে সুপারশপের ব্যবসা উৎসাহিত করতে সেসব দেশের সরকার শুল্ক কর ও ভ্যাটে ছাড় দিয়ে থাকে। আমেরিকা, কানাডা, মধ্যপ্রচ্যের অনেক দেশেই রাজস্ব ছাড়সহ সুপারশপের ব্যবসায় বিভিন্ন সরকারি সুবিধা রয়েছে।