ঢাকা, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

আওয়ামী লীগ-জাপা ভাগাভাগি

http://www.kalerkantho.com/online/country-news/2018/03/14/613224
BYব্রাহ্মণবাড়িয়া ও গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুটি আসনের মধ্যে একটিতে জিতেছে বিরোধী জাতীয় পার্টির প্রার্থী। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনটি ক্ষমতাসীনরা ধরে রাখতে পারলেও গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনটি হাতছাড়া হয়ে গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বি এম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম জাতীয় পার্টির প্রার্থী রেজোওয়ান আহমেদকে হারিয়েছেন বড় ব্যবধানে। অন্যদিকে গাইবান্ধা-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ১০ হাজার ভোটে হারিয়েছেন আওয়ামী লীগের আফরুজা বারীকে। গতকাল মঙ্গলবার এ দুটি আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হলেও কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম।

রাতে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বি এম ফরহাদ হোসেন পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৯৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির প্রার্থী রেজোওয়ান আহমেদ পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৮৪ ভোট। সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. শফিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ নির্বাচনী এলাকায় ভোটার দুই লাখ ১৪ হাজার ৯ জন। ভোট পড়ার হার দুপুর পর্যন্ত ৪৫ শতাংশের মতো ছিল।

গাইবান্ধা-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ৭৮ হাজার ৯২৬ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আফরুজা বারী পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৯১৩ ভোট। নির্বাচনে ৪৪ দশমিক ৪৬ ভাগ ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান। এ আসনে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৩৮ হাজার ৫৫৬।

সুন্দরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম গোলাম কিবরিয়া ও রিটার্নিং অফিসার জি এম সাহতাব উদ্দিন শামীম হায়দার পাটোয়ারীর বিজয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া অন্য দুই প্রার্থীর মধ্যে গণফ্রন্টের শরীফুল ইসলাম পেয়েছেন ৭১১ এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) জিয়া জামান খান পেয়েছেন ৪১৭ ভোট।

ভোটার উপস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছরের শেষ দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। সে হিসাবে এ দুটি আসনে যাঁরা জয়লাভ করবেন, কয়েক মাস পরই তাঁদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এ কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে খুব একটা আগ্রহ ছিল না।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হকের মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বি এম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম, জাতীয় পার্টির রেজওয়ান আহমেদ ও ইসলামী ঐক্যজোটের আবুল কাসেম মোহাম্মদ আশরাফুল হক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা আহমেদ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ায় গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনটি শূন্য হয়। এ আসনে উপনির্বাচনের প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের আফরুজা বারী, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) জিয়া জামান খান ও গণফ্রন্টের শরিফুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, দুর্বৃত্তদের গুলিতে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন নিহত হওয়ার পর এ আসনে সংসদ সদস্য হন গোলাম মোস্তফা আহমেদ। ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।

ভোট কেন্দ্রে বিএনপি : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওমরাহ খান ভোট দিয়ে কুণ্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে বের হন। নিজের দল বিএনপি তো নির্বাচনে নেই, এর পরও তাঁর এমন তৎপরতা কেন- জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা যদি কাজ না করতাম তাহলে দলের অনেক কর্মী হারাতাম। কর্মীরা হয়তো আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে যেত। যে কারণে আমরা লাঙল প্রতীকের প্রার্থীকে সমর্থন দিই। ফেয়ার ইলেকশন হলে লাঙল মার্কা জয়লাভ করবে।’ তুল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়েও ওমরাহ খানের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়।

শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা চালাতে গিয়ে বিএনপির স্থানীয় এক নেতাও দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন।