ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮, ৮ আষাঢ় ১৪২৬

লক্ষ্মীপুরে কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশ বলছে নাটক

http://www.kalerkantho.com/online/country-news/2018/06/14/647811
BYলক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি    

লক্ষ্মীপুরের মান্দারীতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে এক কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশ বলছে, পূর্ব বিরোধের জের ধরে ধর্ষণের নাটক সাজানো হয়েছে।

বুধবার বিকেলে স্বজনরা কিশোরীকে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। ভূক্তভোগীর পরিবারের ভাষ্যমতে, সহযোগীদের নিয়ে ধর্ষণ করা অভিযুক্ত মনির একই গ্রামের মাতব্বর সফি উল্যার ছেলে।

এরআগে গত মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার মান্দারী মিয়াপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা ইউপি সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে প্রথমে তারা বিচারের আশ্বাস দেয়। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং আইনের আশ্রয় না নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালীব্যক্তিরা বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কিশোরীর মা জানান, ঘটনার রাতে দরজা খোলা রেখে তিনি ঘরে নামাজ পড়ছিলেন। কখন যে লোকজন ঘরে ঢুকে মেয়েকে নিয়ে গেছে তিনি টের পাননি। ঘরে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে বাহির হলে ঘরের পাশে বিবস্ত্র ও অচেতন অবস্থায় মেয়েকে দেখতে পেয়ে চিৎকার দিয়ে উঠেন। পরে স্থানীয়রা এসে তার মেয়েকে উদ্ধার করেন।

ভিকটিম কিশোরী জানান, ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে ঘর থেকে মুখে কাপড় চাপা দিয়ে তুলে বাইরে নিয়ে গিয়ে কয়েকজন পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষকদের কথা বার্তা শুনে দু’জনকে সে চিনতে পারে বলে জানান। বিষয়টি মীমাংসা করবে বলে কাউকে জানাতে নিষেধ করে তাকে স্থানীয় মাতব্বররা হুমকি দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ করেন ওই কিশোরী।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মনিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার বাবা সফি উল্যা বলেন, ঘটনাটি সত্য নয়। তবে গ্রামে ইজ্জত রক্ষার্থে অভিযোগটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার চেষ্টা করেছি।

মান্দারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহিম বলেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে আমি শুনেছি। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কেউ অভিযোগ করেনি।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, মঙ্গলবার রাতে শারীরিকভাবে আঘাতের কথা বলে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে যান কিশোরী। বুধবার দুপুরে এসে ধর্ষণের কথা বললে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবগত করা হয়।

এ ব্যাপারে চন্দ্রগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর আহমদ জানান, গণধর্ষণের ঘটনাটি সঠিক নয়। পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিশোধ নিতে এ নাটক সাজানো হয়েছে।