ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

ফুলগাজী-পরশুরামের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

http://www.kalerkantho.com/online/country-news/2018/06/14/647813
BYফেনী প্রতিনিধি   

ফেনীতে ফুলগাজী-পরশুরামের বন্যা পরিস্থিতিরঅবনতি হয়েছে। বুধবার রাত ১১টা পর্যন্ত মোট ৩০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্রবল বর্ষণ ও ঢলে গত মঙ্গল ও বুধবার জেলার ফুলগাজী-পরশুরাম উপজেলার তিন নদীর দুর্বল বেড়ি বাঁধের ১০ স্থানে ভয়াবহ ভাঙনে পানিবন্দি হয়েছে লক্ষাধিক মানুষ। খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকটে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী।

বুধবার রাতে ফেনী-পরশুরাম সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ সড়কের ফুলগাজী উপজেলার ঘনিয়ামোড়া অংশের প্রায় অর্ধ কিলোমিটার সড়ক দেড় ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বুধবার রাতে মুহুরী-কহুয়া নদীর পানি বিপদসীমার ৩০০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতি ঘটছে।

ফেনী জেলা প্রশাসক মনোজ কুমার রায় বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বানভাসি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবারের মতো বন্যায় আমাদেরকে ত্রাণ না দিয়ে নদীর টেকসই বাঁধ নির্মাণ করেন। তাহলে আমাদের উপকার হবে।

সরেজমিনে ঘুরে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ফুলগাজী উপজেলায় মুহুরি-কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হল- উত্তর ও দক্ষিণ দৌলতপুর, বরইয়া, ঘনিয়ামোড়া, ফুলগাজী মাদরাসা, বৈরাগপুর, জয়পুর, মনিপুর, নিলক্ষী, আবুল হাসেম মেম্বার বাড়ি সংলগ্ন অংশ এবং পরশুরাম উপজেলায় চিথলিয়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর, শালধর, কাউতলি, রামপুর।

অথৈই পানিতে ফুলগাজী ও পরশুরামের ৩০টি গ্রামের মানুষজন এখন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এইসব এলাকার বাড়ি-ঘর, পুকুরের মাছ, সবজি ক্ষেত সবই এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেকের গোলার ধান-চাল পানি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। মানুষের রান্নাঘর পানির নিচে। অনেকে উপোস থেকে রোজা রেখেছেন। অনেকে তাদের গৃহপালিত ও গবাদি পশু নিয়ে আশপাশের গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে।

পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আহসান উদ্দিন মুরাদ জানান, আমরা সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা করছি। আপাতত পানিবন্দী গ্রাবাসীর জন্য শুকনো খাবার সরবরাহ করছি।

ফেনীস্থ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কোহিনুর আলম বুধবার রাত ১২টায় ‘কালের কন্ঠ’কে জানান, মুহুরী-কহুয়া নদীর পানি বিপদসীমার ৩০০ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা তা পর্যবেক্ষণে রাখছি।