ঢাকা, সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

নাটোরে মাছের উৎপাদন বাড়ছে

http://www.kalerkantho.com/online/country-news/2018/07/19/659655
BYকালের কণ্ঠ অনলাইন   

নাটোর জেলায় মাছের উৎপাদন ক্রমশ বাড়ছে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে নাটোরে মৎস্য সপ্তাহ ২০১৮ শুরু হয়েছে। সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে শুরু হওয়া মৎস্য সপ্তাহের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ, মূল্যায়ন সভা, পুরষ্কার প্রদান, মৎস্য আইনের বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা, কুইজ প্রতিযোগিতা, প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন এবং তিনদিনের মৎস্য মেলা।

বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, নাটোরে মাছের উৎপাদন ক্রমশ বাড়ছে। প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর আয়োজন এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে মৎস্য বিভাগের সাথে মৎস্য চাষিদের তৈরি হয়েছে মেলবন্ধন, বেড়েছে সচেতনতা, বেড়েছে উৎপাদন। শস্য ভাণ্ডারের মত নাটোর পরিচিতি পাচ্ছে মৎস্য ভাণ্ডার হিসেবেও।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১১-২০১২ সালে জেলায় মাছের মোট উৎপাদন ছিল ৩৩ হাজার ৮৮৬ টন। এর পরবর্তী চার বছরে উৎপাদনের পরিমাণ ক্রমশ বেড়ে হয়েছিল যথাক্রমে ৩৭ হাজার ৬৫৬ টন, ৩৮ হাজার ২৭৫ টন, ৩৯ হাজার ১০৪ টন এবং ৪০ হাজার ৫২১ টন। বিগত ২০১৬-২০১৭ বছরে উৎপাদন আরো বেড়ে হয় ৪২ হাজার ৫৪৭ টন।

জনসংখ্যার আনুপাতিক হিসেবে জেলায় বছরে মাছের মোট চাহিদা ৩৭ হাজার ২৩০ টন। এর বিপরীতে ৪২ হাজার ৫৪৭ টন উৎপাদনের ফলে উদ্বৃত্ত থাকছে পাঁচ হাজার ৩১৭ টন। উদ্বৃত্ত এ মাছ যাচ্ছে দেশের ঘাটতি এলাকার চাহিদা পূরণের জন্যে। বিশেষ করে চলনবিল এবং হালতিবিলের দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু মাছ সকলের পছন্দের।

জেলার চার হাজার ১৫০ হেক্টর নদী এবং দুই হাজার ৯২৬ হেক্টর বিল এলাকা দেশীয় রকমারী প্রজাতির মাছের মূল উৎস। এর বাইরে এক হাজার ১২৫ হেক্টর পুকুর এবং ১৭৪ হেক্টর খাল এলাকায় মাছ চাষ করা হচ্ছে। এর বাইরে রয়েছে ৪৮ হাজার হেক্টরের মৌসুমী প্লাবন ভূমি।

মতবিনিময় সভায় মৎস্য সপ্তাহের বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরা হয়। আগামীকাল শুক্রবার জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে মৎস্য চাষের অগ্রগতি সম্পর্কে মূল্যায়ন সভা শেষে জেলার শ্রেষ্ঠ তিন খামারীকে পুরষ্কার প্রদান করা হবে। একই দিন বনবেলঘড়িয়া মৎস্য খামার প্রাঙ্গণে তিনদিনের মৎস্য মেলা শুরু হবে। শনিবার থেকে মৎস্য আইনের বাস্তবায়নে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হবে। রবিবার দিঘাপতিয়া এম কে ডিগ্রি কলেজে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার হাট-বাজারে উদ্বুদ্ধকরণ সভা ও প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। মঙ্গলবার সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মৎস্য সপ্তাহের সমাপ্তি হবে।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নাটোরের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক গোলাম রাব্বি এবং সভা প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অলক কুমার সাহা। জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা ছাড়াও জেলায় কর্মরত বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।