ঢাকা, সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩ পৌষ ১৪২৬

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বাঁশের মাচা থেকে লাশ উদ্ধার

http://www.kalerkantho.com/online/country-news/2018/09/20/682359
BYনিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বুধবার সকালে উপজেলার শিদলাই গ্রামে বাড়ির পাশের বাঁশের মাচা থেকে রমিজ আলী (৪৫) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের মনসুর আলীর পুত্র এবং ‘বড়দলের’ সমর্থক।

এ ঘটনার পর বুধবার সকাল থেকে শিদলাই গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ব্রাহ্মণপাড়া ও দেবীদ্বার সার্কেল) শেখ সেলিমসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সেখানে গিয়ে তারা বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করেন এবং স্থানীয়দের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর গ্রামটিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত হন ২ জন। তারা ‘ছোট দলের’ সমর্থক ছিলেন। এ ঘটনার ১০ দিনের ব্যবধানে এবার উদ্ধার হলো বড় দলের একজনের লাশ। এ ছাড়াও গতবছর দু’গ্রুপের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে নিহত হন ‘বড় দলের’ লিডার মফিজুল ইসলাম। আগের এসব সংঘর্ষ ও প্রাণহানীর ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা চলছে।

রমিজ আলীর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে এবং প্রতিপক্ষের লোকজনের হামলার ভয়ে তিনি বাড়ির পাশের পুকুরের এক কোণে বাঁশের মাচা পেতে রাত্রী যাপন করতেন। পেশায় জেলে রমিজ আলী দুই পুত্র ও দুই কন্যার জনক।

নিহত রমিজ আলীর স্ত্রী ঝর্না আক্তার জানান, ‘মঙ্গলবার রাতে সবার অগোচরে সে পুকুর পাড়ের মাচায় ঘুমাতে যায়। ভোরে সেখানে ধস্তাধস্তি ও গোঙ্গানির আওয়াজ শুনে আমি ও বাড়ির অন্য মহিলারা গিয়ে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখি।’

ঝর্নার দাবি, ‘ওই সময় ‘ছোটদলের’ লোকজন তার স্বামীর ওপর ছুরি ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। আর এতেই মারা যান রমিজ।’

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আবু মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রমিজ আলীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। সে (রমিজ) খোরশেদ হত্যা মামলার আসামি। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আরো ৫টি মামলা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শুনেছি আগের ঘটনার পর থেকেই রমিজ আলী গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন স্থানে রাত্রি যাপন করতো। তার মৃত্যুটি হত্যাকাণ্ড কি না- এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়না তদন্ত রিপোর্টের পর বিস্তারিত জানা যাবে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক নারীকে আটক করা হয়েছে।’

অপরদিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মোহাম্মদ সেলিম বলেন, স্থানীয় চিকিৎসক ও আশপাশের লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছি হঠাৎ করে প্রেসার বেড়ে যাওয়ার কারণেই রমিজ আলী মারা গেছেন। লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।