ঢাকা, বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ২ কার্তিক ১৪২৬

জনবলের অভাবে হিলি রেল স্টেশন বন্ধ

http://www.kalerkantho.com/online/country-news/2018/10/12/690600
BYহিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব দেখিয়ে অস্থায়ী ভাবে দিনাজপুরের হিলি রেল স্টেশনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে করে জন দুর্ভোগে পড়ছে হিলির রেল যাত্রীরা। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন অনেকে।

হিলি রেল স্টেশনটি ‘বি’ শ্রেণির। এ ধরনের স্টেশনে তিনজন মাস্টার, পাঁচজন পয়েন্টম্যান, তিনজন বুকিং সহকারী এবং দুইজন পোর্টার থাকার কথা। কিন্তু হিলি রেল স্টেশনে বর্তমানে রয়েছে মাত্র একজন পয়েন্টম্যান। তিনিও স্টেশনের যন্ত্রপাতি এবং রেলক্রসিং পাহারা দিচ্ছেন। জনবহুল হিলি রেল স্টেশনটি এখন ফাঁকা পড়ে রয়েছে।

আরো জানা গেছে, হিলি রেল স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন যাত্রা বিরতি করে রাজশাহীগামী আন্তঃনগর বরেন্দ্র এক্সপ্রেস, তিতুমীর এক্সপ্রেস এবং খুলনাগামী রকেট মেইল ট্রেন। এছাড়া এই পথ দিয়ে প্রতিদিন আরো ছয় জোড়া ট্রেন আসা-যাওয়া করে থাকে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় বর্তমানে হিলি স্টেশন দিয়ে চলাচলকারী সব ট্রেন দুই নম্বর লাইন দিয়ে চলাচল করছে।

স্থানীয় জনগণজানান, রেল স্টেশনের আধুনিকায়ন, জনবল নিয়োগসহ সব ট্রেনের স্টপেজ দাবিতে মানববন্ধন ও কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করেও কোনো সাড়া মিলছে না।

এ ব্যাপারে হিলি রেল স্টেশনের দায়িত্বরত পয়েন্টম্যান মীর আলম জানান, 'নিয়ম অনুযায়ী দিনে তিনজন এবং রাতে দুইজন পয়েন্টম্যান থাকার কথা। কিন্তু যোগদান করার পর গত আট বছর থেকে মোট তিনজন পয়েন্টম্যান দেখছি। পরে সেখান থেকেও একজনকে কমিয়ে দুইজন পয়েন্টম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, স্টেশন মাস্টার ও একজন পয়েন্টম্যানকে বদলি করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাকে ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। বর্তমানে হিলিতে একজন পয়েন্টম্যান ছাড়া আর কোনো জনবল নেই।

এদিকে রেল স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, স্টেশন মাস্টার না থাকায় বিরামপুর এবং পাঁচবিবির মধ্যে ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে ট্রেন চলাচল করছে। যার ফলে ওই তিনটি ট্রেন প্লাটফর্মে না থামিয়ে বর্তমানে ২ নম্বর লাইনে থামছে। এতে করে যাত্রীদের ওঠা-নামায় এবং পণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া কোনো টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীর সংখ্যাও কমে গেছে।

রেলওয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী আবুল কালাম, মোহাম্মদ আলী, আরতি রানি বলেন, যাত্রী ছাউনি না থাকায় বৃষ্টির সময় ভিজে ও গরমের সময় রোদে দাঁড়িয়ে থেকে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ট্রেনের টিকেট ষ্টেশনে না পাওয়ায় ট্রেনের মধ্যে টিটির কাছ থেকে টিকিট কেটে নিতে হয়। অনেক সময় ট্রেনের টিটি ফাইন করে পাবর্তীপুর কিংবা নীলফামারী থেকে ভাড়া আদায় করেন। না দিলে ঝামেলা করেন।

এ বিষয়ে হিলি রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বলেন, ‘হিলি রেল স্টেশনটি সীমান্ত সংলগ্ন। তাই নিরাপত্তার জন্য সব সময় সেখানে স্টেশন মাস্টার থাকা জরুরি। এছাড়াও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম হিলি স্থলবন্দর রয়েছে এখানে। যার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক ব্যবসায়ী প্রতিদিন এখানে আসে। এই রেল স্টেশনের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। তাই কর্তৃপক্ষ দ্রুত এখানে মাস্টার নিয়োগ দিয়ে স্টেশনটি চালু করবে বলে আশা করছি।

তিনি আরো বলেন, হিলি বন্দরের গুরুত্ব বিবেচনা করে পাসপোর্টে ভারতে যাতায়াতকারী যাত্রী, আমদানি-রপ্তানিকারক ও স্থানীয় ট্রেন যাত্রীদের সুবিধার্থে হিলি রেল স্টেশনে সব আন্তঃনগর ট্রেন স্টপেজসহ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য স্থানীয় এমপি শিবলী সাদেক গত২১ নভেম্বর রেলমন্ত্রী বরাবরে একটি ডিও লেটার পাঠায়।

এ প্রসঙ্গে হাকিমপুর হিলি পৌর মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত জানান, হিলির গুরুত্ব তুলে ধরে রেলমন্ত্রীসহ রেল মন্ত্রণালয়ের সব ট্রেনের স্টপেজসহ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য আবেদন করা হলেও সেদিকে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে রেলওয়ে রাজশাহী অফিস আকস্মিকভাবে হিলি রেল স্টেশন থেকে স্টেশন মাস্টার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।