ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৬

টেকনাফের ইয়াবা ডিলার সাইফুলের ডেরায় পুলিশি অভিযান

http://www.kalerkantho.com/online/country-news/2018/11/09/701712
BYনিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

দেশের অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় ইয়াবা ডিলার হাজী সাইফুল করিমের ডেরায় অবশেষে অভিযান শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার টেকনাফের শিলবুনিয়া পাড়ার হানিফ ডাক্তারের পুত্র সাইফুলের বাসায় পুলিশ এক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। প্রথম দফায় হাজী সাইফুলের ঘরের বাউন্ডারি দেয়াল ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।

টেকনাফ পুলিশ এ সময় হানিফ ডাক্তারের বাসা থেকে দুইজন মিয়ানমার (বর্মাইয়া) নাগরিককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। মিয়ানমার (বর্মাইয়া) নাগরিকদ্বয় হানিফ ডাক্তারের ছেলে হাজী সাইফুলের ইয়াবার চালান পাচারকারী বলে জানা গেছে।

এ মুহূর্তে টেকনাফে ইয়াবা ডিলার হাজী সাইফুল করিমের পৃষ্ঠপোষকতায় চলছে সিলভার কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার আসর। এ রকম আসরটি দিয়ে এলাকাবাসীর দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ব্যস্ত রাখার প্রয়াস পাচ্ছে সাইফুল সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি রাজনীতির অন্যতম পৃষ্ঠপোষক এবং অর্থের যোগানদাতা বলে পরিচিত সীমান্তের হাজী সাইফুল করিম এক সময় ইয়াবা পাচার করেছেন একদম দাপটের সঙ্গে।

এমনকি চট্টগ্রামের একটি থানায় কর্মরত একজন ওসি’র সঙ্গে কথিত ব্যবসায়িক সখ্যতার সুযোগে গেল বছর মাইনুদ্দিন নামের একজন ওসি টেকনাফ থানায় কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ওপেন সিক্রেট কারবার করেছেন। হাজী সাইফুল করিমের রয়েছে ৭ ভাই। রেজাউল করিম মুন্না নামের এক ভাই ইয়াবাসহ আটক হয়ে রয়েছেন কারাগারে। মাহবুবুল করিম নামের এক ভাই বর্তমানে কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে ইয়াবা বিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চলাকালে ইয়াবা ডন হাজী সাইফুল গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। মাদকের হালনাগাদ তালিকায় সর্বশেষ ৭৩ জনের মধ্যে এক নম্বরে রয়েছেন এমপি আবদুর রহমান বদি ও ২ নম্বরে রয়েছেন হাজী সাইফুল করিম। হাজী সাইফুল কারবার করেন নানা কৌশলে। এমনকি মিডিয়া নিয়ন্ত্রণেও হাজী সাইফুল বিনিয়োগ করেন নানাভাবে। সাইফুল সিন্ডিকেটের অনেকেই কথিত সাংবাদিক হিসাবেও পরিচয় দিয়ে থাকেন।

টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশের নেতৃত্বে পুলিশ বৃহস্পতিবার হাজী সাইফুল করিমের ঘরে হানা দেয়। এ সময় পুলিশ তার ঘর থেকে দুইজন বর্মাইয়াকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। অপরদিকে ইয়াবা ডন সাইফুলের দ্বিতল বাড়ির বাউন্ডারি দেওয়ালও ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বিলম্বে হলেও ইয়াবা ডন সাইফুলের ঘরে পুলিশি অভিযানকে সীমান্তের লোকজন অভিনন্দিত করেছে।