ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৬

চোখে টর্চলাইটের আলো ফেলার জেরে তরুণকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

http://www.kalerkantho.com/online/country-news/2018/11/09/701744
BYজিগারুল ইসলাম জিগার, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম)   

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় চোখে টর্চ লাইটের আলো ফেলার ঘটনায় বাগবিতণ্ডার জেরে মো. আবদুস শুক্কুর (১৮) নামের এক সিএনজি অটোরিক্সা চালককে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে।

নিহত শুক্কুর উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সোনারগাঁও সাদেকের পাড়া গ্রামের বাচা মিয়ার ছেলে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটায় সাদেকের পাড়া এলাকায় প্রতিপক্ষ একই গ্রামের মো. বাবুলের পুত্র মো. জাহেদ হোসেন (২২), মো. ইকবাল হোসেন (২০) ও তাদের মা ডেইজী আকতারসহ কয়েকজন মিলে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে শুক্কুরকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাদেকের পাড়া গ্রামের বাসিন্দা বাচা মিয়া ও বাবুলের পরিবারের মধ্যে কয়েকবছর আগে থেকে বিরোধ লেগে আছে। গত বুধবার রাতে নিহত আবদুস শুক্কুরের বড়ভাই বাপ্পীর চোখে প্রতিপক্ষ বাবুল কর্তৃক টর্চলাইটের আলো ফেলা নিয়ে নতুনভাবে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওসি ইমতিয়াজ ভুঁইয়া।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সাদেকের পাড়া গ্রামের বাচা মিয়ার পরিবারের সাথে প্রতিপক্ষ বাবুলের পরিবারের মামলা নিয়ে বিরোধ রয়েছে কয়েক বছর ধরে। দু'বছর আগে মোবাইল ফোনে কথা বলা নিয়ে বাচা মিয়ার দুই ছেলে শুক্কুর ও বাপ্পীর সাথে বাবুলের পরিবারের ঝগড়া ও মারামারি হয়।

এ ঘটনায় বাবুলের পরিবার মামলা করলে সে মামলায় আদালত থেকে সম্প্রতি খালাস পান বাপ্পী ও শুক্কুর। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে বাবুলের পরিবার।

গত বুধবার রাতে বাচা মিয়ার ছেলে মো. বাপ্পী রাস্তার পাশে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এমন সময় দূর থেকে তার চোখে টর্চলাইটের আলো ফেলে অনেকক্ষণ ধরে রাখেন প্রতিপক্ষের গৃহকর্তা বাবুল। এ সময় তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে বড় ভাই সিএনজি অটোরিক্সা চালক আবুল শুক্কুর এসে যোগ দেন ভাইয়ের পক্ষে।

এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় বাড়ি থেকে বের হয়ে বাজারে যাবার পথে বাবুলের দুই ছেলে জাহেদ, ইকবাল ও তাদের মা ডেইজী আকতারসহ কয়েকজন মিলে আবদুল শুক্কুরকে এলোপাতাড়ি মারধর ও ছোরা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টান মিশন হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।