ঢাকা, রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬

প্রবাসী সন্তানকে আনতে গিয়ে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন বাবা-মা

http://www.kalerkantho.com/online/country-news/2019/02/13/736717
BYলাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

প্রবাসী সন্তানকে আনতে গিয়ে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন বাবা-মা। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের মো. আবদুর রহমানের (৬২) ছেলে মো. আবদুল মমিন স্বপন (৩৮) প্রবাস থেকে দেশে ফিরছেন। সোমবার রাতে তিনি চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে নামেন এবং তার বড় ভাইয়ের বাসায় উঠেন।

এ সংবাদে আদরের সন্তানকে বাড়ি আনতে ভোর রাতে একটি মাইক্রোবাস নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন বাবা মো. আবদুর রহমান, মা কুলসুম বেগম (৫৮), বড় ভাই আবুল কালাম (৪১), স্বপনের দুই ছেলে হাসান (১৪) ও রনি (১০) এবং শ্যালক রাশেদ (১৩)।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে তাঁরা চট্টগ্রাম মিরসরাই উপজেলার নিজামপুর এলাকায় পোঁছেন। ওই সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিজামপুর এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা লাগে মাইক্রোবাসটির। একপর্যায়ে কাভার্ড ভ্যানের পেছনে মাইক্রোবাসটি আটকে যায়। এ সময় কাভার্ড ভ্যানটি মাইক্রোবাসটিকে টেনেহিঁচড়ে নেওয়ার সময় মাইক্রোবাসে আগুন লেগে গেলে ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের তিন যাত্রী পুড়ে মারা যান। অপর চার যাত্রী আগুনে পুড়ে আহত হন।

নিহতরা হলেন, মো. আবদুর রহমান (৬২) তাঁর স্ত্রী কুলসুম বেগম (৫৮) ও মাক্রোবাস চালক নোয়াখালী চাটখিল উপজেলার বানসা এলাকার রুহুল আমিন রুবেল (৩০)। দগ্ধ হয়েছেন মাইক্রোবাসের আরও চার যাত্রী। তাঁরা হলেন, প্রবাসী স্বপনের বড় ভাই আবুল কালাম (৪১), স্বপনের দুই ছেলে হাসান (১৪) ও রনি (১০) এবং শ্যালক রাশেদ (১৩)। আহতদের প্রথমে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ দিকে ওই দিন বিকেল ৩টার দিকে প্রবাসী স্বপনের বাবা-মায়ের লাশ দুটি বাড়ি নিয়ে আসলে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। পুরো এলাকা জুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। একই দিন সন্ধ্যায় মাগরিব নাজামের পর জানাজা শেষে লাশ দুটি পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।