ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৭

আইএমই নম্বর ধরিয়ে দিল তিন প্রতারককে

http://www.kalerkantho.com/online/country-news/2019/04/21/761106
BYনিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

তাঁরা কেউ শিক্ষার্থী, কেউ বেকার, কেউবা কর্মজীবী। পাড়ি দিতে চেয়েছিলেন কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে। ভিসা প্রসেসিংয়ের কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় আট কোটি টাকা।

২০১৫ সালে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় ফরচুন গ্লোবাল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড এডুকেশন সেন্টার খুলে এ প্রতারণা করা হয়। ভুক্তভোগীর সংখ্যা প্রায় ২০০ জন। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ার পর ডবলমুরিং থানায় মামলা হয়। চার বছর তদন্তের পর একটি আইএমই নম্বরের সূত্র ধরে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত আবদুর রউফের ছেলে অনিম ইসলাম মুন্না ওরফে মাসুদুজ্জামান খান মুন্না (৩৪), তাঁর ভাই রফিকুজ্জামান খান রনি (৩২) ও বাগেরহাট জেলা সদরের কলাবাড়িয়া গ্রামের খন্দকার আব্দুল মুহিতের ছেলে খন্দকার আবুল হাসান সুমন (৩২)।

এ নিয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এতে গোয়েন্দা পুলিশের বন্দর বিভাগের উপকমিশনার এস এম মোস্তাইন হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ফরচুন গ্লোবাল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড এডুকেশন সেন্টার খুলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়। স্টুডেন্ট ভিসাসহ নানা ধরনের ভিসা দেওয়ার নাম করে প্রায় ২০০ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে তারা পালিয়ে যায়। প্রতারকদের বিরুদ্ধে ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় প্রতারণা ও মাদকের একাধিক মামলা আছে।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক ও স্বপন কুমার সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রতারকের নাম, ঠিকানা, মোবাইল রেজিস্ট্রেশন, পাসপোর্টসহ সব কিছুই ভুয়া ঠিকানায় করা। এ কারণে দীর্ঘদিন তাদের শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনার পর থেকে চক্রের সবার মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। কিছুদিন আগে একটি আইএমই নম্বরের বিপরীতে একটি মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়। এর সূত্র ধরে পিরোজপুর, রবিশাল ও ঢাকায় ঘুরে আসামিদের প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। শেষে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রতারণার শিকার মোহাম্মদ জামশেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কানাডা যাওয়ার ভিসা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় আমি দুই দফায় পাঁচ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। বিশ্বাস তৈরি করতে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা আমাকে পাঁচ লাখ ৮০ হাজার টাকার চেক দেয়। কিন্তু কানাডা পাঠানোর নির্ধারিত তারিখের আগেই তারা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে পালিয়ে যায়।’

একইভাবে প্রতারণার শিকার গৃহবধূ কামরুন্নাহার বলেন, ‘আমার ভাইকে কানাডা পাঠানোর জন্য আমি নিজে ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে এক লাখ টাকা দিয়েছিলাম। তারা টাকা নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে পালিয়ে যায়। এত দিন পর গোয়েন্দা পুলিশ প্রতারকদের গ্রেপ্তার করল।’