ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০১৯, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

প্রেমিক পুলিশ সদস্যের বাড়িতে বিষের বোতল নিয়ে প্রেমিকার অবস্থান

http://www.kalerkantho.com/online/country-news/2019/04/24/762453
BYআঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে বিষের বোতল নিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন এক তরুণী। এ খবরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলার পানাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। গত দুই দিন ধরে ওই তরুণী অবস্থান করছে। স্ত্রীর দাবিদার ওই তরুণীর নাম খাদিজা আক্তার আঁখি (২১)। উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের ধূরুয়া গ্রামের মো. কাশেম মিয়ার মেয়ে তিনি।

আঁখি জানান, গত ছয় বছর আগে পানাটি গ্রামের শামছুল হকের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলম (২৬)এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরবর্তীতে তাদের পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে গত বছর ১৫ সেপ্টেম্বর আদালতে এফিডেভিট ও রেজিস্ট্রি কাবিন মূলে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা ময়মনসিংহ শহরে একটি ভাড়া বাসায় প্রায় তিন মাস একসঙ্গে থেকেছেন।

এরপর জাহাঙ্গীর তার পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে করে ঘরে তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে জানতে পারেন জাহাঙ্গীরের পুলিশে চাকরি হয়ে যাওয়ায় সে ঢাকায় অবস্থান করছে। সেখানে অন্য এক মেয়েকে বিয়েও করেছে। পরে তাঁর সন্ধান করে স্ত্রীর মর্যাদা দাবি করে ঘরে তুলে নেওয়ার আকুতি জানায়।

এ সময় জাহাঙ্গীর তাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে উল্টো তাকে নানা কথাবার্তা বলে মামলা দায়েরের হুমকি দেয়। এ ঘটনা শোনে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ বাবা শয্যাসায়ী হয়ে যায়। এ অবস্থায় প্রেমিকের পরিবার, চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ এলাকার মাতবরদের কাছে বিচার চেয়ে না পেয়ে ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

খাদিজা আরো জানান, জাহাঙ্গীর আলমের পুলিশ কনস্টেবল নং-৫৪৩৯। তিনি রাজধানীর উত্তরা থানায় কর্মরত আছেন। তিনি বলেন, ‘আমার সবই তো শেষ। এখন স্ত্রীর মর্যাদা না দিলে আত্মহত্যা ছাড়া কোনো পথ নাই।’

এ বিষয়ে জানতে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে জাহাঙ্গীরের বড় ভাই সাদ্দাম হোসেন জানান, খাদিজার সঙ্গে তার ভাইয়ের বিয়ের ঘটনা তাদের পরিবারের লোকজন আগে জানত না। গত মঙ্গলবার বিকেলে ওই তরুণী তাদের বাড়িতে অবস্থান করার পর ঘটনাটি তারা জানতে পারেন।