ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬

নিহত প্রধান শিক্ষিকার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম

https://www.kalerkantho.com/online/country-news/2019/11/10/837551
BYনারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   
নারায়ণগগঞ্জ ফতুল্লার মাসদাইর পুলিশ লাইনস স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মাহমুদা বেগম ইজিবাইক চাপায় নিহত হওয়ার ঘটনায় পুরো পরিবার বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। পরিবারে চলছে শোকের মাতম। শিক্ষিকা মাহমুদার স্বামী মো. মাহাবুব আলম ব্যবসায়ী। সংসারে দুটি সন্তান দুজনেই মেয়ে। বড় মেয়ে সুমাইয়া ফারহা তিথি ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ প্রথম বিভাগের ছাত্রী ও ছোট মেয়ে লাবিবা তাহসীন শহরের মাসদাইর গভমেন্ট গার্লস স্কুলের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী।

গতকাল শনিবার দুপরে শহরে মাসদাইর এলাকায় এন এস টাওয়ারের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটের বাসিন্দা নিহত শিক্ষিকা মাহমুদা বেগমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মা হারোনের শোকে দুই মেয়ের কান্না কেউ থামাতে পারছে না। বড় মেয়ে মেডিক্যালে প্রথম বর্ষের টার্ম পরীক্ষা থাকলেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। মায়ের শোকে বারবার মূর্ছা যাওয়া দুই মেয়েকে সান্তনা দিতে গিয়ে বারবার কাঁদছে বাবা নিজেই।

শিক্ষিকা মাহমুদার স্বামী কান্নাজাড়ি কণ্ঠে বলেন, 'আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। সংসারটি খুব সাজানো গোছানো ছিল। দুই মেয়েকে নিয়ে খুব সুখে সংসার করছিলাম।

স্ত্রী মাহমুদার স্মৃতিচারণ কওে তিনি বলেন, 'ওকে (নিহত মাহমুদা) বলেছিলাম চাকরিটা করো না। ও বি এড ডিগ্রীধারী ছিল। আসলে ও চাকরিটা খুব এনজয় করত। অর্থের জন্য নয়। পেশাটাকে খুব ভালোবাসত সে'।

শিক্ষিকা মাহমুদার দেবর মো. নূর আলম জানান, ঘটনার দিন পুলিশ লাইন স্কুলে পুলিশের পরীক্ষা ছিল। সেই পরীক্ষা নিতেই শিক্ষিকা মাহমুদা স্কুলে গিয়েছিলেন।

তিনি জানান, আমরা ভাবতে পারিনি আমাদের জন্য এ রকম একটি দুর্ঘটনা অপেক্ষা করছে। ঘাতক ইজিবাইক চালক পালিয়ে গেছে।

এদিকে শনিবার দুপুর আড়াইটায় মাসদাইর এন এস টাওয়ার তিন তলা শোকার্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে হাজির হন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক। তিনি মাহমুদার দুই মেয়েকে জড়িয়ে ধরে সান্তনা দেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসন আছে বলে আশ্বস্ত করেন। ওই সময় তিনি শোকাহত পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।

ইউএনও নাহিদা বারিক সাংবাদিকদের জানান, অটোরিকাশার বিরুদ্ধে আইনগত দিক বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই অটোরিকশাগুলোর কোনো বৈধতা নেই। এ বিষয়ে আমরা পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেব।

এদিকে মাসদাইর এন এস টাওয়ারের বাসিন্দা আলিমুদ্দিন জানান, ঢাকা- নারায়ণগঞ্জ পুরাতন পাগলা পুলিশ লাইন সড়ক দিয়ে যেসব ইজিবাইক চলাচল করছে এগুলোর কোনো আইনগত বৈধতা নেই। বেপরোয়া এসব ইজিবাইক হরহামেশাই দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। তারপরে কোনো ক্ষমতাবলে এগুলো সড়কে চলছে তা প্রশাসন ভালো বলতে পারবে।

প্রসঙ্গত শুক্রবার রাত ৮টায় ঢাকা নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার মাসদাইর এলাকায় শিক্ষিকা মাহমুদা স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় একটি (অটোরিকশা) ইজিবাইক দ্রুতগতিতে এসে তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি রাস্তায় পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পায়। খবর পেয়ে স্বজনরা এসে মাহমুদা বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে শহরের খানপুর এলাকায় অবস্থিত ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

পরে ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান, নারায়ণগঞ্জেই মাহমুদা বেগমের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টায় জানাজা শেষে মাহমুদার লাশ ফতুল্লার মাসদাইর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, ইজি বাইকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।