ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১২ কার্তিক ১৪২৭

মিয়ানমার থেকে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ

https://www.kalerkantho.com/online/country-news/2020/09/20/957259
BYটেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

দেশে পেঁয়াজের চলমান সংকট মোকাবেলায় প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে আবারো বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে টেকনাফ স্থলবন্দর ব্যবসায়ীরা। এরই অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার টেকনাফ স্থলবন্দরে ৩০ মে. টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।

স্থলবন্দরের আমদানিকারক মো. ওসমানের কাছে এসব পেঁয়াজ আসে। প্রায় আড়াই মাস বন্ধ থাকার পর নতুন করে এসব পেঁয়াজ আমদানি হয়। মিয়ানমারে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতির অবনতি না হলে দেশে পেঁয়াজের সংকট মুহূর্তে বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানির সুযোগ দেখছেন অন্যান্য ব্যবসায়ীরা।

টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশে চলতি বছরের মার্চ থেকে করোনাভাইরাসের প্রভাব দেখা দেওয়া সত্ত্বেও গত জুন পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে পেঁয়াজ আমদানি স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মিয়ানমারের আকিয়াব বন্দর এলাকায় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বন্দরে লকডাউন ঘোষণা করে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় মিয়ানমার। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলে সেদেশের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির উদ্যোগ নেয়।

টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক মো. ওসমান কালের কণ্ঠকে বলেন, শনিবার আমার কাছে মিয়ানমার থেকে ৩০ মে. টন পেঁয়াজ এসেছে। দেশে পেঁয়াজের চাহিদা বিবেচনা করে আরো বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। মিয়ানমারের আকিয়াব বন্দর এলাকায় করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আবারো পেঁয়াজ আমদানির ধুম পড়বে বলে মনে করি। আমরা বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানির মাধ্যমে পেঁয়াজের সংকট মোকাবেলায় ভূমিকা রাখতে চাই।

ব্যবসায়ী এমএ হাসেম বলেন, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে আমি মিয়ানমার থেকে প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছিলাম। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা আবারো রেকর্ড পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যেগ নিচ্ছি। মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে দ্রুত পেঁয়াজ আমদানি আবারো শুরু করার উদ্যোগ নিচ্ছি।

টেকনাফ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ইউনাইটেড ল্যান্ডপোর্টের ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দীন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে গত কয়েক মাস পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ছিল। এখন আবারো পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। আমরা ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে বন্দরে দ্রুত পেঁয়াজ খালাস করে পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছি। বিশেষ করে পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

টেকনাফ স্থলবন্দরের শুল্ক কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন পর মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছে ব্যবসায়ীরা। এ ধারাবাহিকতায় বন্দরে ৩০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ এসে পৌঁছেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ দেখা গেছে।

তিনি আরো বলেন, গত ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে মিয়ানমার থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ৩১৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রভাব না থাকলে সে ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত থাকত। আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, চলতি মাস থেকে আবারো পেঁয়াজ আমদানি পুরোদমে শুরু হবে।