ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ২ পৌষ ১৪২৪

নিখোঁজ সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফের স্বজনদের উৎকণ্ঠা বাড়ছে

http://www.kalerkantho.com/online/dhaka/2017/12/08/574964
BYনিজস্ব প্রতিবেদক   

সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের নিখোঁজ রহস্য উন্মোচিত হয়নি চার দিনেও। তাঁর কোনো খোঁজ না পেয়ে স্বজনদের উত্কণ্ঠা বাড়ছে। স্বজনরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেও হতাশ হচ্ছে।

পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা গতকাল বৃহস্পতিবারও তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তবে মারুফের কোনো হদিস বের করতে পারেননি তাঁরাও।

মারুফ জামানের ছোট মেয়ে সামিহা জামান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এখন পর্যন্ত আব্বুর কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। আমরা অনেক উত্কণ্ঠার মধ্যে আছি। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা কোনো মেসেজ দিতে পারছে না। '

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধানমণ্ডি থানার ওসি আবদুল লতিফ বলেন, 'এখনো তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আমাদের সঙ্গে ডিবিসহ অনেকেই কাজ করছে। সব বিষয় খতিয়ে দেখছি। '

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, গতকাল সকালে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পক্ষ থেকে মারুফের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। বিকেলে স্বজনরা যোগাযোগ করলেও ডিবি বা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে মারুফের কোনো খবর জানাতে পারেনি।

মারুফের বড় মেয়ে শবনম জামান বেলজিয়ামে পিএইচডি করছেন। বাবার নিখোঁজ হওয়ার সংবাদে তিনি চরম উত্কণ্ঠার মধ্যে আছেন। বারবার ছোট বোন সামিহার কাছে ফোন করে বাবার খোঁজ জানতে চাইছেন তিনি।

এদিকে মারুফের বড় বোন শাহরিনা কামাল ভাইয়ের চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বাড়িতে ভিড় করছেন আত্মীয়স্বজন। পারিবারিক সূত্র জানায়, মারুফ জামানের সঙ্গে একটি স্মার্টফোন ছিল। আর বাসায় আরেকটি স্মার্টফোন ছিল। তিন ব্যক্তি এসে বাসার স্মার্টফোনও নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে ল্যাপটপ, কম্পিউটারের সিপিইউসহ তাঁর ব্যবহৃত সব ডিভাইস নিয়ে গেছে। এসব ফোন নম্বর ও সংযোগের তথ্য দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, মারুফ জামানকে কারা নিয়েছে তা জানতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও ডিভাইসের তথ্য বিশে্লষণ করা হচ্ছে।

গত সোমবার সন্ধ্যায় বিদেশফেরত মেয়েকে আনতে বিমানবন্দরের উদ্দেশে নিজেই গাড়ি চালিয়ে ধানমণ্ডির ৯/এ সড়কের বাসা থেকে বের হন মারুফ জামান। এরপর তিনি বাসায় ল্যান্ডফোনে কল করে গৃহকর্মীকে বাসায় লোক যাবে বলে জানান। এরপর তিন সুঠামদেহী ব্যক্তি তঁার বাসায় গিয়ে ইলেকট্রনিকস ডিভাইস নিয়ে যায় এবং তল্লাশি করে।

পরদিন মঙ্গলবার খিলক্ষেতের তিন শ ফুট রাস্তায় তাঁর প্রাইভেট কারটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই তাঁর মেয়ে ধানমণ্ডি থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন।

মারুফ জামান ১৯৭৭ সালে সেনাবাহিনীতে সিগন্যাল কোরের 'ষষ্ঠ শর্ট কোর্সে' ক্যাপ্টেন হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ওই চাকরি ছেড়ে ১৯৮২ সালে ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। প্রথম দিকে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ছিলেন। এরপর কাতার ও ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্ট্যাডিজের (বিআইএসএস) অতিরিক্ত মহাপরিচালক ছিলেন। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে ২০১৩ সালে অবসরে যান তিনি।

x