ঢাকা, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০, ২১ চৈত্র ১৪২৬

নীলা চৌধুরীর ২১ দাবির প্রমাণ পায়নি পিবিআই

https://www.kalerkantho.com/online/entertainment/2020/02/24/878503
BYনিজস্ব প্রতিবেদক   

সালমান শাহ হত্যা মামলায় আদালতে আবেদনে এবং পিবিআইয়ের কাছে মৌখিক ও লিখিতভাবে ২১টি দাবি উপস্থাপন করেছিলেন বাদি নীলা চৌধুরী। কিন্তু সে দাবিগুলোন সত্যতার কোনো প্রমাণ পায়নি পিবিআই।

পিবিআই প্রধান বনজ কুমার বলেন, তার প্রতিটি দাবিই যাচাই করা হয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে মেলানো হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর পক্ষে বা হত্যার কোনো প্রমাণ মেলেনি।’

আসামি হিসেবে সালমানের স্ত্রী সামিরা হক, তার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী ও চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, রাবেয়া সুলতানা রুবি, রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ, সহকারী নৃত্যপরিচালক নজরুল শেখ, ডেভিড, অভিনেতা আশরাফুল হক ডন, মোস্তাক ওয়াইদ, সহকারী আবুল হোসেন খান ও গৃহকর্মী মনোয়ারা বেগমের নাম উল্লেখ করেন নীলা চৌধুরী।

২১ দাবির মধ্যে এই আসামিদের প্রতেক্যের জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য উপাত্তও দিয়েছিলেন নীলা চৌধুরি। সেসব তথ্য খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন পিবিআই কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহকে হত্যা করা হয়নি বলে দাবি করেছে পুলিশের তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই চিত্রনায়কের রহস্যঘেরা মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের নির্দেশে তৃতীয় দফায় তদন্ত শেষে গতকাল সোমবার পিবিআই এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, সালমান শাহ আত্মহত্যাই করেছিলেন। ওই সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে ‘অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা, স্ত্রী সামিয়ার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ এবং মাত্রাধিক আবেগপ্রবণতা’সহ পাঁচটি কারণে সালমান আত্মহত্যা করেন। পরিবার ও ভক্তদের দাবি এবং প্রতিবেশীদের রহস্যজনক তথ্য দেওয়ার পর তিন বছর দুই মাস তদন্ত করে পিবিআই এমন দাবি করেছে। দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্তকারীরা ৪৪ জন স্বাক্ষীর বক্তব্য রেকর্ড করেছেন, যাদের মধ্যে ১০জন আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন।

ঘটনার এসব তথ্য ফের প্রত্যাখান করেছেন সালমানের স্বজনরা। তাঁরা বলছেন, আগের মতোই আত্মহত্যার তথ্য শুনে ২৩ বছর পাঁচ মাস ২০ দিন পরে তারা হতাশ হয়েছেন। হত্যার ঘটনা এবারো প্রভাবশালী মহল ভিন্নখাতে নিয়েছে। এদিকে প্রবাসী চিত্রনায়িকা শাবনূর তাকে জড়িয়ে পিবিআইয়ের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।, সহ শিল্পীর মৃত্যু ঘটনায় তাকে জড়ানো ভিত্তিহীন।

সোমবার ধানমন্ডির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই তিনি বলছেন প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, এই তদন্ত প্রতিবেদন মঙ্গলবার আদালতে জমা দেওয়া হবে। আগের দুই দফা ময়নাতদন্তে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়ে, তদন্তকালে সবার সাক্ষ্য বিবেচনা করে পিবিআই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে- তাকে হত্যা করা হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে পারিবারিক কলহ আর স্ত্রী সামিরার কারণে মা নিলুফা চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরীকে ছেড়ে দূরে থাকার মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেই অভিমানী সালমান শাহ আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে তাদের মনে হয়েছে।

সেই রুবি অসুস্থ্য, বক্তব্য প্রত্যাখান করেছেন সালমান শাহকে হত্যার দাবি নিয়ে তার মা ও ভক্তরা যখন বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছিলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ‘বিউটিশিয়ান’ রাবেয়া সুলতানা রুবির একটি ফেসবুক ভিডিও ভাইরাল হয়। ২০১৭ সালের ওই ভিডিওতে তিনি বলেছিলেন, ‘আত্মহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন সালমান শাহ এবং তা করিয়েছিল তারই স্ত্রী সামিরা হকের পরিবার।’

তদন্তে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে পিবিআইয়ের ডিআইজি বনজ কুমার বলেন, ‘ওই রুবি অসুস্থ্য। এর মধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এটর্নী অফিসের (আদালত) মাধ্যমে আমাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। তার চিকিৎসার কাগজপত্রও আমরা পেয়েছি।’

আরো দুইবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন সালমান! সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার দাবি করেন, সালমান শাহ আগেও দুবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন আবেগপ্রবণ সালমান। জনপ্রিয় নায়ক হয়ে ওঠার আগে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে ৯০টি ঘুমের ওষুধ সেবন করেন তিনি। পরবর্তীতে প্রথম ছবির (কেয়ামত থেকে কেয়ামত) সেটেও সেভলন সেবন করেন তিনি। বন্ধুদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সালমান শাহ বন্ধুদের সঙ্গে অল্পতেই ঝগড়া বাধাতেন। পরে ঝগড়া মেটানোর জন্য নিজের হাত কেটে রক্ত দিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি লিখতেন।