ঢাকা, সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩ পৌষ ১৪২৬

বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে কর্মসংস্থান হবে ২৫ হাজার মানুষের

http://www.kalerkantho.com/online/info-tech/2018/09/25/684216
BYকালের কণ্ঠ অনলাইন   

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটির ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে নয়টি কোম্পানিকে প্লট বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যেই ওই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তি করে তাদের প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। পরবর্তী ৪০ বছরের জন্য বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি-তে রবি অজিয়াটা, জেনেক্স, বিজেআইটি সফটওয়্যার, ফেয়ার ইলেক্ট্রনিক্স, কেডিএস গ্রুপ, ইন্টারক্লাউড, বিজনেস অটোমেশন, নাজডাক টেকনোলজিস এবং জেআর এন্টারপ্রাইজ নামীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ বিনিয়োগের সুযোগ পেল।

বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে সফটওয়্যার কোম্পানি ক্যাটাগরিতে দেড় একর জায়গা বরাদ্দ পেয়েছে রবি আজিয়াটা লিমিটেড। কোম্পানিটি এখানে আইটি/আইটিইএস, ডিজিটাল সার্ভিস মেনুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রি এবং হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কাজ করতে ২ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে সেই সঙ্গে একশ ১০ জনের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবে। ফেয়ার ইলেক্ট্রনিক্স লিমিটেড বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান সামস্যাং-এর বাংলাদেশি ডিস্ট্রিবিউটর। প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে তিন একর জমি বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে তারা ইলেক্ট্রনিক্স, হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার (ল্যাপটপ, কমিউনিকেশন ডিভাইস ইত্যাদি) উৎপাদন করতে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। তাছাড়া দেশি-বিদেশি মোট দুইশ ৫০ জনের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবে।

বিজেআইটি বাংলাদেশ এবং জাপানি বিনিয়োগকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত একটি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি। বিশ্বের অনেক দেশেই প্রতিষ্ঠানটির অফিস রয়েছে। বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে দুই একর জমি বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি, মোবাইল এপ্লিকেশন, আইওটি সার্ভিস, ওয়েব এপ্লিকেশন সার্ভিস, টেস্টিং সার্ভিস, অটোমেশন টেস্টিং সার্ভিস, বৈশ্বিক বাজারের জন্য আইটি কনসালটেন্সিসহ আরো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। ২০২৩ সালের মধ্যে চার হাজার জনের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবে তারা।

কেডিএস গ্রুপ মূলত বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টর, স্টিল ইন্ডাস্ট্রি, আইটিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাদেরকে তিন একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বিপিও, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডাটা সেন্টার ইত্যাদি কার্যক্রম করতে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে এবং পাঁচ হাজার জনেরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

ইন্টারক্লাউড প্রতিষ্ঠানটি দেশের আইটি খাতে শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে একটি। প্রতিষ্ঠানটি বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে তিন একর জমি বরাদ্দ পেয়েছে। প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে ২১ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। সাতশ ৭০ জনের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবে তারা।

জেনেক্স ইনফোসিস লি. বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে টেকনোলজি কমপ্লেক্স সংক্রান্ত (ডাটা সেন্টার, টিওটি রিসার্চ, আউটসোর্সিং ইত্যাদি) কাজ করার জন্য দুই একর জমি বরাদ্দ পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে এবং ১০ হাজার জনের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবে।

নাজডাক টেকনোলজিস লি. বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে মিনি পিসি এসেম্বলিং ও বিক্রি, আইটি রিলেটেড টেকনিক্যাল ট্রেনিং এবং সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করবে। প্রতিষ্ঠানটিকে দুই একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তারা ৬১ দশমিক ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে এবং তিন হাজার ছয়শ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

জেআর এন্টারপ্রাইজ বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে ডাটা সেন্টার, ট্রেনিং সেন্টার ও ই-ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম নিয়ে কাজ করবে। তাদেরকে দুই একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে এবং একশ ১০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

বিজনেস অটোমেশন লি. ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে স্পেস বরাদ্দ নিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের কার্যক্রম বৃহৎ পরিসরে করার লক্ষ্যে আরো দুই একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে এবং একশ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

এই চুক্তির মাধ্যমে যে নয়টি কোম্পানি ২০ দশমিক ৫০ একর জমি বরাদ্দ পেল, তারা হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, আইওটি, বিপিও, ট্রেনিং সেন্টার, ডাটা-সেন্টার প্রভৃতি উচ্চ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করবে। যা হাই-টেক পার্কে প্রায় ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

কোম্পানিগুলো এখানে প্রায় একশ ৪০ দশমিক ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে।