ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৭ আশ্বিন ১৪২৭

আমি বিজ্ঞান বই বলছি!

https://www.kalerkantho.com/online/miscellaneous/2020/01/18/863906
BYকালের কণ্ঠ অনলাইন   

নতুন বছরের নতুন সব বই হাতে পেয়ে আনন্দে মেতে উঠলেও আমাকে দেখে হাসিমাখা মুখটা একটু কেমন গোমড়া হয়ে গেছে? অথচ একটু মজা করে পড়লেই বিজ্ঞান নিয়ে আর অজ্ঞান হতে হবে না; বরং আমি হয়ে যেতে পারি তোমার সেরা বন্ধু। আর সামনে তো জেএসসি, এ পরীক্ষায় ভালো করতে এবং পরে বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার ইচ্ছা থাকলে তো আমার সঙ্গে খাতির জমানোর বিকল্প নেই। তাই আজ বলব কিভাবে আমাকে বুঝবে আর মজা পাবে।

আছে মোটে ১৪টি অধ্যায়। এগুলো তোমাদের জন্য নতুন। তবে প্রতিটিই আকর্ষণীয়। এখন তোমাদের যা করতে হবে—এগুলো পড়তে হবে বাস্তবের সঙ্গে মিলিয়ে। তা হলে পড়াটা শুধু পরীক্ষা নয়, জীবনভর কাজে লাগবে।

থম অধ্যায় : প্রাণিজগতের শ্রেণিবিন্যাস আশপাশের লাখ লাখ প্রাণীর প্রত্যেককে আলাদাভাবে শনাক্ত করা অসম্ভব একটা ব্যাপার। তাই শ্রেণিবিন্যাস করাটাই বিজ্ঞানীদের শেষ ভরসা। এ কাজ এমনভাবে করা হয়, যাতে এতে মোটামুটি সব প্রাণীর বৈশিষ্ট্যই জানা যায়। যেমন ভূতের বইয়ের তাকে যত বই থাকবে সবই হবে ভৌতিক। একইভাবে আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীগুলোর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো এদের মাথায় এক জোড়া পুঞ্জাক্ষি ও অ্যান্টেনা থাকে। যেমন—তেলাপোকা, প্রজাপতি, চিংড়ি ইত্যাদি। শ্রেণিবিন্যাসের জাদুকরী ব্যাপারটা তোমরা শিখবে প্রথম অধ্যায়ে। লক্ষ করবে যে, এনিমেলিয়া জগতের ৯টি পর্ব আছে। একেকটি পর্বের প্রাণীর রয়েছে কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য। প্রথম দেখায় তোমাদের সেই বৈশিষ্ট্যগুলো আয়ত্তে আনতে বেগ পেতে হবে। এর জন্য একটি বড় কাগজ কিংবা পোস্টারে সব পর্বের নাম, ওই পর্বের সাধারণ বৈশিষ্ট্য এবং পর্বভুক্ত প্রাণীগুলোর নাম ও ছবি এঁকে ফেলবে। ছবি যত রঙিন ও মজার হবে, মনে রাখা তত সোজা। আঁকাআঁকি না পারলে কালার প্রিন্ট করে নিতে পারো। দেয়ালের এমন জায়গায় পোস্টারটি লাগিয়ে রাখবে, যাতে দিনে একবার সেটা চোখে পড়বেই। মনে রাখবে, প্রত্যেক পর্বের সাধারণ বৈশিষ্ট্য এবং পর্বভুক্ত প্রাণীর উদাহরণ সৃজনশীল ও বহু নির্বাচনীতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উদ্দীপকে সাধারণ বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত দিয়ে সেটা কোন পর্ব, তার অন্যান্য বৈশিষ্ট্য এবং উদাহরণ জানতে চাওয়া হতে পারে। জানতে চাওয়া হতে পারে এক পর্বের প্রাণীর সঙ্গে অন্য পর্বের প্রাণীর পার্থক্য।দ্বিতীয় অধ্যায় : জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি একটি ছোট্ট শিশু কিভাবে চোখের সামনে বড় হয়? ব্যাপারটা কিন্তু ঘটে মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে। এ বিভাজনের ফলে দেহকোষ বিভাজিত হয়ে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। শিশুর দেহের বৃদ্ধির রহস্য তো জানা গেল; কিন্তু সেই শিশুটি আসে কিভাবে? উত্তর পাওয়া যাবে মিয়োসিস বিভাজনের ধারণা থেকে। এটাও এক প্রকারের কোষ বিভাজন। আমাদের দেহকোষের মাইটোসিস বিভাজন ধাপে ধাপে ঘটে। এই ধাপগুলোর চিত্র এবং প্রত্যেক ধাপের বর্ণনা ভালোভাবে শিখতে হবে। এ জন্য তোমরা প্রথম অধ্যায়ের মতো চিত্র এঁকে রঙিন পোস্টার বানিয়ে নিতে পারো। আবার মাইটোসিসের ধাপগুলো সৃজনশীল ও বহু নির্বাচনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া মিয়োসিসের বৈশিষ্ট্য, মাইটোসিস ও মিয়োসিসের পার্থক্য, মিয়োসিস কেন হয়, মিয়োসিস কোষ বিভাজনের নমুনার চিত্রও তোমাদের অনুশীলন করতে হবে। মিয়োসিস কোষ বিভাজনে জননকোষে ক্রমোজম সংখ্যা কেন মাতৃকোষের ক্রমোজম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায় তা বোঝার চেষ্টা করবে।

আরেক ধরনের কোষ বিভাজন আছে। এর নাম অ্যামাইটোসিস। ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট, ছত্রাক, অ্যামিবা ইত্যাদি এককোষী জীবে এ বিভাজন হয়। বইতে এ পর্যন্ত যা কিছু আছে তা জীবের বৃদ্ধি সম্পর্কিত। এরপর আসবে এ অধ্যায়ের দ্বিতীয় অংশ তথা জীবের বংশগতি। মা-বাবার বৈশিষ্ট্য সন্তানদের মধ্যে কিভাবে যায় এটাই বংশগতির আলোচ্য। বংশগতির বৈশিষ্ট্য বহনে ক্রমোজমের গুরুত্ব এবং ডিএনএ, আরএনএর ভূমিকা নিয়েও ধারণা পাবে।

তৃতীয় অধ্যায় : ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন উদ্ভিদ কিন্তু আমাদের মতো খাওয়াদাওয়া, হাঁটা-চলা করতে পারে না। ওদেরও বেঁচে থাকার জন্য কিছু করতে হয়। উদ্ভিদ তাদের মূল দিয়ে মাটি থেকে পানি এবং পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণ শোষণ করে। সেই পানি ও রস কাণ্ডের ভেতর দিয়ে পাতায় যায়। অতিরিক্ত পানি আবার বাষ্পাকারে দেহ থেকে বেরও করে দেয়। এগুলোই ব্যাপন, অভিস্রবণ, শোষণ, পরিবহন ও প্রস্বেদন। এখানে তোমরা বেশ কয়েকটি পরীক্ষা পাবে। হাতে-কলমে পরীক্ষাগুলো বারবার করলেই অধ্যায়টি সম্পর্কে ধারণা পোক্ত হবে। বইয়ের চিত্রগুলো অবশ্যই অনুশীলন করবে।চতুর্থ অধ্যায় : উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়টি তথ্যে ভরপুর এবং বহু নির্বাচনী প্রশ্ন তৈরির কারখানা! তাই এর তথ্যগুলো ভালোভাবে মনে রাখা চাই। কিভাবে উদ্ভিদ তার বংশধর সৃষ্টি করে তা নিয়েই মূল আলোচনা। উদ্ভিদের প্রজননকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে—অযৌন ও যৌন। এই অযৌন জননের আবার দুটি ভাগ আছে—স্পোর উৎপাদন ও অঙ্গজ জনন। অঙ্গজ জননের বিভিন্ন পদ্ধতি দেখতে পাবে। তোমাদের কাজ হবে এগুলোর ছোট ছোট ব্যাখ্যাসহ উদাহরণগুলো ফ্ল্যাশকার্ড আকারে নোট করে রাখা, যাতে একবার চোখ বুলালেই সব পড়া যায়। পোস্টার টেকনিক কাজে লাগাতে পারো এখানেও। এ চ্যাপ্টারের পদ্ধতিগুলো শিক্ষককে বলে কিংবা নিজ উদ্যোগে হাতে-কলমে দেখে নিতে পারো।

এরপর যৌন জননে দেখবে ফুলের বিভিন্ন অংশ নিয়ে আলোচনা আছে। এটি সৃজনশীলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভব হলে একটি জবাফুলের বিভিন্ন অংশ হাতে-কলমে চিনে নেবে। বইয়ের ফুলের ছবি এঁকে অনুশীলন করবে। কোন অংশের কী কাজ তা-ও লিখে রাখবে।

এরপর পরাগায়ণ। এটি কিভাবে হয়, কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি না ঘটলে জীবজগতের কী হতো তা পড়বে। এসংক্রান্ত ভিডিও দেখতে সাহায্য নিতে পারো ইউটিউবের। ফুলের অভিযোজন ও এদের উদাহরণ, নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়া ও ফলের উৎপত্তি; সরল, গুচ্ছ ও যৌগিক—এই তিন ধরনের ফল কাকে বলে এবং এদের বিভিন্ন উদাহরণ, বীজের গঠন ও অঙ্কুরোদগম পড়বে। সেই সঙ্গে একটি ছোলা বীজের বিভিন্ন অংশের চিত্র এবং মৃত্গত ও মৃেভদী অঙ্কুরোদগমের চিত্রও অনুশীলন করবে।

পঞ্চম অধ্যায় : সমন্বয় ও নিঃসরণ অধ্যায়টিতে উদ্ভিদ ও প্রাণিবিজ্ঞান দুটি অংশ রয়েছে। জীবের বিভিন্ন কাজের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে আলোচনা রয়েছে। প্রাণীর মতো উদ্ভিদের আলাদা কোনো তন্ত্র থাকে না। ফলে উদ্ভিদকে হরমোনের ওপর নির্ভর করতে হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন উদ্ভিদের বিভিন্ন কাজের সমন্বয় ঘটে এসব হরমোনের প্রভাবে। তোমরা বই থেকে অক্সিন, জিব্বেরেলিন, ইথিলিন হরমোন এবং এদের কাজ সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেবে। এগুলো আলাদা নোট করে রাখবে। এরপর স্নায়ুতন্ত্র নামের একটি আকর্ষণীয় বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হবে। প্রাণীর মস্তিষ্কে নিউরন বা স্নায়ুকোষের চিত্র এবং কাজটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য একটি পোস্টার বানালে এবং চিত্রসহ স্নায়ুকোষের বিভিন্ন অংশের কাজগুলো নোট করলে কাজে আসবে। উদ্দীপনা বহনের প্রবাহচিত্রটাও অনুশীলন করবে।

মস্তিষ্কের তিনটি প্রধান অংশ এবং এদের কাজগুলো সৃজনশীল ও বহু নির্বাচনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবর্ত চক্র অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেটা থেকে প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতার প্রশ্নও আসবে। রেচনতন্ত্র থেকেও প্রশ্ন আসে। সঙ্গে রেচনতন্ত্রের ছবিটা অনুশীলন করতে ভুলো না।

(বাকি অধ্যায়গুলো থাকছে পরবর্তী সংখ্যায়)