ঢাকা, রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৬

বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণের নীতিমালা হচ্ছে

http://www.kalerkantho.com/online/national/2018/07/12/657222
BYনিজস্ব প্রতিবেদক   

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত কতজন রোগী বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছে ও কত টাকা ব্যয় হয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান আপাতত দেওয়া সম্ভব নয়। তবে, নীতিমালা প্রণয়নের পর এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য দেওয়া সম্ভব হবে। বাংলাদেশের রোগীদের বিদেশ গিয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণের লক্ষ্যে নীতিমালা প্রণয়নের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।

ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে এ সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সরকারী দলের সদস্য ডা. মো. এনামুর রহমান। জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, প্রতি বছর আমাদের দেশ থেকে চিকিৎসার জন্য কিছু সংখ্যক রোগী বিদেশে যায়। তবে মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মূলত চারটি রোগের চিকিৎসা গ্রহণের জন্য তারা বিদেশে যান। কারণসমূহ হচ্ছে, -আর্থিক স্বচ্ছলতা, বিদেশে চিকিৎসা প্রীতি, হেলথ ট্যুরিজম ও বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে চিকিৎসা স্বল্পতা। তবে এ প্রবণতা কমিয়ে আনতে দেশে সকল মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালকে আধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা সুসজ্জিতকরণের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। তাছাড়া বেসরকারি পর্যায়েও রয়েছে আন্তজার্তিক মানের বেশ কিছু আধুনিক হাসপাতাল যেখানে অন্য দেশ থেকে এসে রোগীগণ চিকিৎসা গ্রহণ করার বহু নজির আছে।

আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ আব্দুল মান্নান ও মেজর (অব.) রফিকুল ইসলামের পৃথক দুটি প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ড অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে এই মুহুর্তে এক লাখ ডাক্তার প্রয়োজন। কিন্তু এই মুহুর্তে দেশে সরকার নিবন্ধিত ডাক্তার রয়েছে মাত্র ২৮ হাজার। সরকার অচিরেই আরো ১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

তিনি আরো বলেন, ১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগ করলেই ডাক্তারের সংকট থেকেই যাবে না। আমাদের মেডিক্যাল কলেজ থেকে প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার মেডিক্যাল শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। তাই চাইলেই আজকেই সব সমাধান করা সম্ভব হবে না।

সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য জাহান আরা বেগম সুরমার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আর্সেনিক বিষক্রিয়ায় মানুষ চারটি রোগে আক্রান্ত হতে পারে। রোগগুলোর মধ্যে চর্মরোগ, পায়ে ও হাতের আঙ্গুলে পচন ধরা বা গ্যাংগ্রিন, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার এবং লিভার, কিডনী, মুত্রাশয় ও ফুসফুস আক্রান্ত হওয়া ইত্যাদি। এসব রোগ সম্পর্কে দেশবাসীকে সচেতন করতে সরকার সচেতনমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে আরো দুটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের জন্য আইন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নতুন কোনও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের আপাততঃ নেই।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য মো. নুরুল ইসলাম ওমরের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে একজন করে দেশে মোট ১২ হাজার ৮৩৭ জন কমিউিনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) কর্মরত আছে। বর্তমানে এক হাজার ৫৬টি সিএইচসিপি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন। যা খুব শীঘ্রই সম্পন্ন হবে।