ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৬

এটা কার? মডরিচ, এমবাপ্পে না অন্য কারো?

http://www.kalerkantho.com/online/sport/2018/07/13/657459
BYকালের কণ্ঠ অনলাইন   

তাঁর গোলেই রচিত রয়েছে ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় স্বপ্নের ভিত। বুধবার রাতের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোলটি করার পর নায়ক হয়ে ওঠারই কথা মারিও মান্দজুকিচের। কিন্তু ম্যাচ শেষে এই স্ট্রাইকারের কণ্ঠে কেবলই অন্য একজনের প্রশস্তি—তাঁর অধিনায়ক লুকা মডরিচ! মান্দজুকিচ রায় দিয়ে ফেলেছেন, এবারের বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটা মডরিচেরই পাওয়া উচিত।

মডরিচ এখন সেই স্বপ্ন দেখতেই পারেন। বিশ্বকাপে এখন বাজছে বিদায়ের সুর, আর মাত্র দুটি ম্যাচ, তারপরই পর্দা নামবে মাসব্যাপী এই মহোৎসবের। আর এই উৎসবের একেবারে শেষ দৃশ্যেই খুঁজে পাওয়া যায় মহানায়ককে। সাধারণত যে দল বিশ্বকাপ জেতে, সেই দলেরই কোনো একজন ফুটবলার পেয়ে থাকেন সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার, গোল্ডেন বল। কিন্তু ব্যতিক্রম যে হয় না, তা নয়। এই তো গত আসরেই আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেই গোল্ডেন বল জিতেছিলেন লিওনেল মেসি। ক্রোয়েশিয়াকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের

ফাইনালে পৌঁছে দেওয়া মডরিচের কৃতিত্বটা তার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। পরিসংখ্যানও কথা বলছে তাঁর পক্ষে : এই বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষকে খুঁজে নেওয়া নিখুঁত পাস বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলা এই মিডফিল্ডার। ৮৬ শতাংশ নিখুঁত পাসের সঙ্গে দুটি গোল আর একটি অ্যাসিস্ট, দুর্দান্ত সব ট্যাকলে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়া, কোথায় নেই তিনি! মানজুকিচের মতো সতীর্থরা তো তাঁর গুণ গাইবেই।

ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ, যাতে আছেন কার্লোস আলবার্তো পাহেইরা, মার্কো ফন বাস্তেনের মতো সাবেক তারকা ও কোচ—টুর্নামেন্টের প্রতিটা ম্যাচ চুলচেরা বিশ্লেষণ করে তাঁরাই তো জানাবেন এবারের সেরা খেলোয়াড়ের নাম। মডরিচের নাম না থেকে পারে না তাঁদের নোটবুকে। তবে ফাইনালে নিশ্চিত তাঁর সঙ্গে লড়াই হবে কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানের। তিনটি করে গোল দুজনেরই, সঙ্গে ফ্রান্সের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের লাগামটাও তাঁদেরই হাতে। ফাইনালের একটা ঝলক তাঁদের যে কাউকে নিয়ে আসতে পারে সেরার মঞ্চে।

টুর্নামেন্টের অন্য সোনালি ট্রফি, মানে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে সবার আগে থাকা হ্যারি কেইনকেও ভুলে গেলে চলবে না! নবীন ইংল্যান্ড দলকে পথ দেখিয়ে সেমিফাইনাল পর্যন্ত তুলে আনার কৃতিত্বটা ইংল্যান্ড অধিনায়কের, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে আরো খানিকটা ঝলক দেখিয়ে সোনার বলেরও দাবি জানাতে পারেন তিনি। বেলজিয়ামের এডেন হ্যাজার্ড আর কেভিন ডি ব্রুইনাও থাকবেন এই তালিকায়, এমনকি থাকতে পারেন মেসি ও তাঁর প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও। কিন্তু দল দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নেওয়ায় তাঁদের সম্ভাবনা আসলে প্রায় শূন্য, লড়াইটা হবে মডরিচের সঙ্গে এমবাপ্পে-গ্রিয়েজমানদেরই। বড় জোর কেইন-হ্যাজার্ড-ডি ব্রুইনা পর্যন্ত গড়াতে পারে লড়াই, তার বেশি নয়।

গোল ডট কম, রয়টার্স