ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৬

নিজ মেয়ের ধর্ষকের কাছ থেকে ঘুষ খেলেন বাবা-মা!

http://www.kalerkantho.com/online/world/2018/04/17/626135
BYকালের কণ্ঠ অনলাইন   

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ধর্ষণের শিকার এক কিশোরী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন, তার বয়ান বদল করে ‘বিষয়টি মিটমাট করা হয়েছে’ বলে জানানো হয়েছে। এর জন্য তার বাবা-মা অভিযুক্তদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন।

১৫ বছরের ওই কিশোরীর অভিযোগের ভিত্তিতে তার মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে কিশোরীর বাবা পলাতক রয়েছেন।

গেলো বছর আগস্ট মাসে অপহরণ করে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে নির্যাতন চালানো হয়েছিল ওই কিশোরীর ওপর। পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছিল ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের। কিন্তু তারা সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়েছেন।

পুলিশের কাছে দেয়া বয়ানে ওই কিশোরী জানিয়েছেন, তারপর থেকেই অভিযুক্তদের তরফ থেকে টাকা নিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে তার বাবা-মায়ের কাছে প্রস্তাব দেয়া হয়।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ওই কিশোরী বলেছে তার বাবা-মা চাপ দিচ্ছিল আদালতে তার বয়ান বদল করতে। বিশ লাখ টাকা দেয়ার কথা হয়েছিল ধর্ষিতার পরিবারকে। অগ্রিম হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে গিয়েছিল মেয়েটির বাবা-মায়ের কাছে।

তবে ওই কিশোরী বয়ান বদল করতে না চাওয়ায় বাবা-মা তাকে মারধরও করেছে। এমনকি একটা ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল তাকে। বাবা-মা যখন বাড়িতে ছিলেন না, তখন ওই মেয়েটি বাড়িতে রাখা নগদ টাকার বান্ডিল নিয়ে প্রেমনগর পুলিশ ফাঁড়িতে হাজির হয়।

আউটার দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার এম এন তিওয়ারী বলেন, প্রথমে ফাঁড়ির ডিউটি অফিসারকে ওই কিশোরী জানায়, তার কাছে কাগজে মোড়া তিন লাখ টাকা রয়েছে। অভিযুক্তরা ওই টাকা দিয়েছে তার বাবা-মাকে, যাতে সে আদালতে বয়ান বদল করে।

টাকাটা বিছানার নিচে রাখা ছিল। বাবা-মা কাজে চলে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে ওই কিশোরী টাকার বান্ডিল নিয়ে পুলিশের কাছে হাজির হয়। পরে অবশ্য গুণে দেখা যায় যে, ওই বান্ডিলে চার লাখ ৯৬ হাজার টাকা রয়েছে।

ওই কিশোরী পুলিশকে আরও জানিয়েছেন, ধর্ষণে অভিযুক্তরা জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর থেকেই তার ওপর বয়ান বদলের জন্য চাপ দিতে শুরু করে বাবা-মা।

তিওয়ারী বলেন, মেয়েটির অভিযোগের ভিত্তিতে তার বাবা-মা এবং অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। কিশোরীটির মাকে গ্রেপ্তার করা গেছে। কিন্তু তার বাবা পলাতক রয়েছেন।

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ওই কিশোরীকে অপহরণ করা হয়েছিল। প্রায় এক সপ্তাহ পরে সে বাড়ি ফিরে আসে। তখন সে অভিযোগ করে যে তাকে আটকে রেখে গণধর্ষণ করা হয়েছে।

ওই এক সপ্তাহ ধরে তাকে নয়ডা আর গাজিয়াবাদের বেশ কয়েকটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও সে অভিযোগ জানিয়েছিল পুলিশের কাছে। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ওই এলাকারই কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তারপর থেকেই বয়ান বদল করতে চাপ দেয়া হচ্ছে। ঘুষও দেয়া হয়েছে বাবা-মাকে।

তবে পুলিশ বলছে, এধরনের ঘটনা খুবই বিরল। কেননা, নানা সময়ে ধর্ষণের শিকার মেয়েদের দিক থেকে সমাজ মুখ ফিরিয়ে নিলেও সাধারণত দেখা যায় যে বাবা-মা অন্তত তার পাশে আছেন। কিন্তু এক্ষেত্রে অভিযুক্তদের কাছ থেকে ঘুষ নিলেন বাবা-মা, বয়ান বদলে চাপ দিলেন, এটাই আশ্চর্যের।