ঢাকা, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

প্রথমবারের মতো কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের রিপোর্ট

http://www.kalerkantho.com/online/world/2018/06/14/647953
BYকালের কণ্ঠ অনলাইন   

প্রথমবারের মতো কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটসস কাউন্সিল। রিপোর্টে নানাভাবে কাশ্মীরে ভারতের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করা হয়েছে।

কিন্তু বৃহস্পতিবার এর কড়া জবাব দিল ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ওই রিপোর্টকে, প্রতারণামূলক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিলেও কোনভাবেই রিপোর্টটিকে আটকাতে পারেনি ভারত।

কাশ্মীরে অবস্থিত জাতিসংঘের অফিস অব দ্য হাইকমিশনার অব হিউম্যান রাইটস-এর প্রধান জায়েদ রাদ আল হুসেইন এই রিপোর্টে বলেছেন, ভারতের সেনাবাহিনী কাশ্মীরিদের উপর মাত্রাতিরিক্ত জোর জুলুম চালায়। তারা আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে গিয়ে কাজ করে।

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। দেখতে হবে, যেসব অতিরিক্ত জুলুম চালানোর ঘটনা ঘটেছে, তার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়।’

এই রিপোর্ট নিয়ে ব্যাপক চটেছে ভারতের কূটনীতিক মহল। ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর একে ‘যাচাইহীন তথ্যের সংকলন, যার জন্য কোনও দেশ আবেদন জানায়নি’, বলে মন্তব্য করেছে। তবে অফিস অব দ্য হাইকমিশনার অব হিউম্যান রাইটস বা ওএইচসিএইচআর একটি স্বশাসিত সংস্থা, তাই নিজে থেকেই রিপোর্ট পেশ করার ক্ষমতা তাদের আছে।

ভারত এই রিপোর্টের বিরুদ্ধে কড়া জবাব দিলেও, কূটনৈতিক দিক থেকে তাদের কিছুই করার নেই। এতদিন ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কথা বলে এসেছে। এই রিপোর্ট ভারতের সেই অবস্থানকে জোর ধাক্কা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের যে ছবিটা রয়েছে তাতে লেগেছে কালির ছিটে।

এমুহূর্তে জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলেও নেই ভারত। তাই কোনও দিক থেকেই রিপোর্টটিকে আটকানো যায়নি। জানা গেছে, জাতিসংঘের জেনারেল অ্যাসেম্বলি ও সিকিওরিটি কাউন্সিলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে সেটি। এখন ভারতকে কোনও দেশ প্যাঁচে ফেলতে চাইলে এই প্রতিবেদন তাদের কাছে অত্যন্ত বড় অস্ত্র হয়ে দাঁড়াবে। কাজেই আগামী দিনে বিভিন্ন দেশে ও আন্তর্জাতিক সংগঠনে ভারতীয় কূটনীতিকদের কাজ বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।

সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া