ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮, ৮ আষাঢ় ১৪২৬

যানজট নেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে; স্বস্তিতে ঘরমুখো মানুষ

http://www.poriborton.com/dhaka/126918
BYটাঙ্গাইল প্রতিনিধি ৪:৩৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৮

সরেজমিনে বুধবার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, ঈদযাত্রার প্রথম দিনের মতোও বুধবার দ্বিতীয় দিনেও মহাসড়কে স্বাভাবিকভাবেই যানবাহন চলাচল করছে। এছাড়া মহাসড়ক অনেক সময় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। তবে ফাঁকা এই মহাসড়কে যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের পাশাপাশি ট্রাক, পিকআপে ছাদে করেও মহাসড়ক পাড়ি দিতে দেখা গেছে। তবে যানজট নিরসনে তৎপর রয়েছে পুলিশ।

হাইওয়ে পুলিশ বলছে, মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এতে চাপও বাড়ছে, কিন্তু কোথায় কোন দীর্ঘ কিংবা স্থায়ী যানজট সৃষ্টি হয়নি। মহাসড়কে অনেক সময় ফাঁকা অবস্থায় থাকছে। তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। মহাসড়কে জেলা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে। মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশে চার সেক্টরে ভাগ করে প্রতি সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে একজন করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে। প্রতি দুই কিলোমিটার সড়কে একটি করে মোটরসাইকেল ভ্রাম্যমাণ পুলিশ দল রয়েছে। কোথাও যানজট শুরু হলে তারা দ্রুত সেখানে পৌছে ব্যবস্থা নিতে পারবে। এ ছাড়া যানজট নিরসনে ৬টি স্থানে আইপি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে।

পুলিশ প্রশাসন বলছে, তবে মহাসড়কের ধেরুয়া রেলক্রসিং, ঘারিন্দা আন্ডারপাস, এলেঙ্গা বাজার ও বঙ্গবন্ধু সেতু টোলপ্লাজায় গাড়ির চাপ বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সব স্থানে জেলা পুলিশের নজরদারি বেশি রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ভিআইপিদের জন্য নিয়ম অমান্য করে পুলিশ গাড়ি পাস করে দেয়। এ ছাড়া সাব কন্ট্রোল রুম ৪টি, ৩৬টি মোটারসাইকেল টিম সার্বক্ষণিক, প্রিকেট কিংবা পয়েন্ট রয়েছে ৪৮টি।

টাঙ্গাইল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) শরীফুল হক পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, মহাসড়কের টাঙ্গাইলের অংশে যানজটের সৃষ্টি হয়নি। নির্বিঘ্নে মানুষ বাড়ি যেতে পেরেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ মহাসড়ক দিয়ে ২২ হাজার ৬০টি গাড়ি যমুনা সেতু দিয়ে পারাপার হয়েছে। আস্তে আস্তে মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে যানজট নিরসনে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। আশা করছি মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হবে না।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট আজিজুর রহিম তালুকদার পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ঈদ যাত্রায় দ্বিতীয় দিনেও ঘরমুখো মানুষ স্বতিতে যেতে পারছে। মহাসড়ক প্রায়ই স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। আশা করছি ঘরমুখো মানুষ এবারে ভোগান্তি ছাড়াই মহাসড়ক পাড়ি দিতে পারবেন। তবে বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ হতে পারে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে কথা হয় চার লেন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক জিকরুল হাসানের সাথে। তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, এবারের ঈদ যাত্রায় গত মঙ্গলবার থেকে চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ২৬টি ব্রিজ, রাস্তা এবং কালভার্ট খুলে দেয়া হয়েছে। এছাড়া চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার চারলেন সড়ক ব্যবহার করতে পারছেন বলে তিনি জানান।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, প্রতি দুই কিলোমিটার সড়কে একটি করে মোটর সাইকেল ভ্রাম্যমাণ পুলিশ দল রয়েছে। কোথাও যানজট শুরু হলে তারা দ্রুত সেখানে পৌঁছে ব্যবস্থা নিতে পারেব। মহাসড়কে ১ হাজার’ পুলিশ ও ১৯০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আসন্ন ঈদে বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে এবং ঘরমুখো মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছতে পারে সেজন্য টাঙ্গাইল পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

কয়েকদিন আগে থেকেই ঈদ যাত্রায় চার লেনের কাজ, খানাখন্দ থাকায় এ বছর ঈদ যাত্রায় ভোগান্তির আশঙ্কা ছিল। কিন্তু মহাসড়কে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতার জন্য এবং চালকরা নিয়ম অনুযায়ী যানবাহন চলাচল করায় এখন পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়নি। এএলএন/এএস