ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৭
BYসানাউল্লাহ সাকিব, ঢাকা
১২ জুন ২০১৯, ১৮:০৬

বেসরকারি ও রাষ্ট্রমালিকানাধীন বিভিন্ন ব্যাংকে জমা রাখা প্রায় ৯০০ কোটি টাকা স্থায়ী আমানত (এফডি) হঠাৎ করে তুলে নিচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গত সোমবার সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে বিটিআরসি আজ বুধবারের মধ্যে এসব টাকা ফেরত দিতে বলেছে। বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে তা সরকারি কোষাগারে জমা করবে বিটিআরসি। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এসব আমানত মাত্র দুই দিনের নোটিশে ফেরত দেওয়ার চিঠি পেয়ে বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন ব্যাংকের শতাধিক শাখার ব্যবস্থাপকেরা। কারণ, ব্যাংক খাতে এখন চরম তারল্যসংকট চলছে। বেসরকারি খাতের ব্যাংকে এ সংকট প্রকট। তাই বিটিআরসির চিঠি পেয়ে গতকাল সারা দিন বিভিন্ন ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের নানা স্থানে দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা গেছে। বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারের টাকা সরকার যেকোনো সময় তুলে নিতে পারে। আমরা এমনিতেই এ টাকা ১ জুলাইয়ের মধ্যে তুলে নিতাম। এবার একটু আগেভাগেই তুলে নেওয়া হচ্ছে।’বিটিআরসি ব্যাংকে দেওয়া চিঠিতে বলেছে, সরকারের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে অনিবার্য কারণে এফডি সুদসহ সমুদয় অর্থ বিটিআরসির অনুকূলে পে-অর্ডারের মাধ্যমে বুধবারের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে, যা পরে প্রজাতন্ত্রের সংযুক্ত তহবিলে জমা দেওয়া হবে। সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) গোলাম ফারুক বলেন, ‘বিটিআরসি তাদের টাকা ফেরত চেয়েছে, আমরা দিয়ে দেব। মেয়াদ শেষের আগে তারা টাকা ফেরত নিচ্ছে। এতে তো আমাদের কিছু করার নেই।’জানা গেছে, টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আদায় করা রাজস্ব সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় মেয়াদি আমানত হিসেবে রাখে বিটিআরসি। কিন্তু ব্যাংকিং খাতে সৃষ্ট সংকট, অনিয়ম, নিরাপত্তা ও ঝুঁকি বিবেচনায় এ অর্থ সরাসরি প্রজাতন্ত্রের সংযুক্ত তহবিলে জমা দিতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দেয় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। আর জানায়, সরকারের উন্নয়ন ব্যয়ের কারণে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে ও সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এজন্য বিটিআরসির অায় সরাসরি সরকারি খাতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এ নিয়ে সোমবার আবারও বিটিআরসিকে চিঠি দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ও বিটিআরসিকে তাগাদা দেয়।বিটিআরসির বড় অঙ্কের তহবিল রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি, ইউনিয়ন, এনআরবি গ্লোবাল, বেসিক, রূপালী, এবি ও ওয়ান ব্যাংকে। এ ছাড়া তহবিল রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড, মধুমতি, আল-আরাফাহ্, সাউথ বাংলা, মিডল্যান্ড, এনআরবি, যমুনা, ন্যাশনাল, এক্সিম, মার্কেন্টাইলসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংকে। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের এমডি মামুন-উর-রশিদ বলেন, ‘আমাদের ৫ শাখায় বিটিআরসির আমানত ছিল। মেয়াদ শেষের আগেই তারা টাকা ফেরত চেয়েছে।’