ঢাকা, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

বাবরি মসজিদ মামলার রায়ে অসন্তুষ্ট মুসলিমরা

https://www.ppbd.news/abroad/130923
BYআন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:  ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৩:০৭

ফাইল ছবি ভারতের অযোধ্যায় মোগল আমলে তৈরি বাবরি মসজিদের মামলার রায়ে অসন্তুষ্ঠি প্রকাশ করেছেন মুসলিমরা। শনিবার ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ নেতৃত্বাধীন শীর্ষ আদালত অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির নির্মাণের পক্ষে রায় দিয়েছেন। রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড বলছে, রায়ের বিরুদ্ধে পরবর্তী কি পদক্ষেপ নেয়া যায়; সেবিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ অযোদ্ধা বাবরি মসজিদ মামলার রায়ে সর্বসম্মত বলে জানিয়েছেন।

রায় ঘোষণার পর সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের আইনজীবী জাফরায়েব জিলানি বলেন, আমরা সুপ্রিম কোর্টের রায়কে সম্মান জানাই। তবে আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট নই। পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করব।

অন্যদিকে হিন্দু মহাসভার আইনজীবী বরুণ কুমার সিংহ বলেন, এটি ঐতিহাসিক রায়। এই রায়ের মধ্যে দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের বার্তা দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে এ মামলার বিচারক বেঞ্চে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ ছাড়াও ছিলেন বিচারপতি এসএ বোবদে, ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, অশোক ভূষণ এবং এস আব্দুল নাজির। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে রায় পড়ে শোনান প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ।

টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, রায়ে দেশটির শীর্ষ এই আদালত বলেছেন, বিতর্কিত মূল জমি পাবে ‘রাম জন্মভূমি ন্যাস।’ এই জমিতে মন্দির তৈরিতে কোনো বাধা নেই। তবে কেন্দ্রীয় সরকারকে আগামী তিন মাসের একটি ট্রাস্ট গঠন করতে হবে। ওই ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানেই থাকবে বিতর্কিত মূল জমি। কীভাবে, কোন পদ্ধতিতে মন্দির তৈরি হবে, সে পরিকল্পনাও করবে ট্রাস্ট।

অন্য দিকে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে বিকল্প ৫ একর জমি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। নির্দেশে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ কোনও জায়গায় ওই জমির বন্দোবস্ত করতে হবে সরকারকে।

রায়ে বলা হয়েছে, সম্রাট বাবরের সেনাপতি মীর বাকি যে বাবরি মসজিদ তৈরি করেছিলেন, তার প্রমাণ রয়েছে। তবে সেটা কোন সালে, তা নির্ধারিত নয় এবং তারিখ গুরুত্বপূর্ণ নয়। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের খননে অন্য কাঠামোর প্রমাণ মিলেছে। তবে সেই কাঠামো থেকে এমনও দাবি করা যায় না যে, সেগুলো মন্দিরেরই কাঠামো।

আবার সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের দাবি খারিজ করে ভারতের শীর্ষ আদালত বলেছেন, শুধুমাত্র বিশ্বাসের ভিত্তিতে কোনও অধিকার দাবি করা যায় না। জমির মালিকানা আইনি ভিত্তিতেই ঠিক করা উচিত।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম