ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৬

চবিতে খালেদার নাম মুছে ফেলায় ছাত্রদল, শিক্ষক ফোরামের নিন্দা

http://www.pbd.news/campus/83124
BYচবি প্রতিনিধি
প্রকাশ:  ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:০২

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আবাসিক হল থেকে ছাত্রলীগ কর্তৃক বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নাম মুছে দেয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।

বুধবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো সংগঠনটির মুখপাত্র ড. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

এ ঘটনার সাথে জড়িতদেরকে গ্রেফতারের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং একই সাথে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে নামফলক অবিলম্বে পূণঃস্থাপনের দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে স্থাপিত বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের নাম মুছে ফেলা একটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত সন্ত্রাসী ঘটনা। যা বাংলাদেশের রাজনীতির প্রতিহিংসাপরায়ণতারই সুস্পষ্ট প্রতিফলন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের নামকরণ বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ পর্ষদ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হয়ে থাকে এবং এটির পরিবর্তন, পরিমার্জন অবশ্যই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়। এর ব্যত্যয় হওয়াটা একটি নৈরাজ্যকর এবং সন্ত্রাসী কর্ম হিসাবে ধর্তব্য।’

একই ঘটনার প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ যাকারিয়া স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পুরোধা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে হলের নামফলক তুলে দিয়ে দুষ্কৃতকারীরা তাদের ঘৃণ্য মনোবাসনা চরিতার্থ করেছে। আমরা মনে করি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে সুপরিকল্পিতভাবে হলের নামফলক ভাঙচুর করা হয়েছে। দুষ্কৃতকারীদের এ ধরনের উসকানিমূলক অপকর্ম ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশকে হুমকির মুখে ঠেলে দিবে।’

অন্যদিকে একই ঘটনার প্রতিবাদে ৪৪ শিক্ষকের স্মাক্ষর সম্বলিত বিবৃতি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছে জিয়া পরিষদ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মান্নান স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য অতিব গুরুত্বপূর্ণ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনর অতি সন্নিকটে। নির্বাচনের জন্য সমগ্র জাতি যখন অধির অপেক্ষায় আছে, দেশের আপামর গণতন্ত্রকামী জনগণ যখন সকল রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও নেতাকর্মীদের কাজ থেকে পরস্পরের প্রতি সহনশীলতা ও শ্রদ্ধাবোধ আশা করছে। তখন একটি ছাত্র সংগঠনের এহেন নেক্কারজনক ঘটনা দেশের গণতন্ত্র বিকাশের পথকে রুদ্ধ করবে এবং জাতিকে এক অন্ধকার ভবিষতের দিকে ঠেলে দিবে বলে আমরা মনে করি।’

বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল বিষয়টি নিয়ে গতকাল বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যে সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তারা বিষয়টি অবহিত করে নাম ফলক পুনঃস্থাপন করার দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মান্নান।

এ প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। তারা কোনো সংগঠনের কিনা আমি জানি না।’

এছাড়া নাম মুছে ফেলার ঘটনার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি খুরশেদুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম শহিদ বলেন, ‘সরকার দলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ একের পর এক অপকর্মের দ্বারা ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত করার পাশাপাশি ছাত্র রাজনীতিকে কলুষিত করে যাচ্ছে। বিরোধী মতাদর্শের নেতাকর্মীদের উপর হামলা, মারামারি-খুনাখুনি, চাঁদাবাজি, ল্যাপটপ চুরি, মোবাইল-মানিব্যাগ ছিনতাই, মাদক বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্যসহ এমন কোন অপকর্ম নেই যাতে তারা জড়িত নয়। তাদের এসব অপকর্ম ঢাকার জন্যেই তারা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত এ হীন কার্যে লিপ্ত হয়েছে।’

উল্লেখ্য, এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার হলের’ নাম ফলক তুলে ফেলেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এছাড়া ছাত্রীদের হলের সড়কে থাকা সাইনবোড থেকে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর নাম মুছে ফেলা হয়। এসময় বীর প্রতীক তারামন বিবির নামে হলটি নামকরণের দাবিও জানিয়েছিলেন তারা।

পিবিডি/আরিফ