ঢাকা, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ৫ মাঘ ১৪২৭

প্রথম কিস্তির ২৭ কোটি পরিশোধ করল রবি

https://www.ppbd.news/https:/ppbd.news/finance-trade/140018
BYনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ:  ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:২৭ | আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:৪২

অডিট আপত্তিতে বিটিআরসির দাবির ২৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে রবি। মঙ্গলবার (১৪জানুয়ারি) অপারেটরটি এই টাকা পরিশোধ করে।

বিটিআরসি’র ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকার নিরীক্ষা দাবির মধ্য থেকে হাই কোর্টের নির্দেশে ১৩৮ কোটি টাকার প্রথম কিস্তি পরিশোধ করল রবি।

বিটিআরসির তরফ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

আদালত গত ৫ জানুয়ারি বিটিআরসি-রবির অডিট আপত্তির পাওনা দাবির ইস্যুতে আপাতত পাঁচ মাসের সমান কিস্তিতে ১৩৮ কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিল। যার প্রথম কিস্তি দেয়ার কথা ছিল ৩০ জানুয়ারির মধ্যে। একইসঙ্গে আদালত অপারেটরটির বন্ধ থাকা এনওসি দিতে বলেছেন আদালত। রবি যদি ১৩৮ কোটি টাকার কিস্তি পরিশোধ না হলে আদালতের এই আদেশ প্রত্যাহার হয়ে যাবে।

রবির ওপর থেকে সরঞ্জাম আমদানি ও প্যাকেজ অনুমোদনের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার কথা। উঠে গেলে বাধাহীন বিনিয়োগে যেতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু গ্রামীণফোনের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকছেই। নিষেধাজ্ঞা তুলতে গত ২৪ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গ্রামীণফোনকে ২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের জন্য বলেন। এ জন্য গ্রামীণফোনের হাতে সময় আছে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

নিরীক্ষা করিয়ে রাজস্বের ভাগাভাগি, কর ও অন্যান্য খাতে গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ও রবির কাছে ৮৬৭ কোটি টাকা দাবি করছে বিটিআরসি। গ্রামীণফোন ও রবি বরাবরই বলে আসছে, তারা নিরীক্ষার সঙ্গে একমত নয়।

এই পাওনা দাবি আদায়ে ২০১৯ সাল জুড়েই নানা পদক্ষেপ নিতে থাকে বিটিআরসি। যেখানে ব্যান্ডইউথ ক্যাপাসিটি ব্লক, এনওসি বন্ধ, লাইসেন্স বাতিলে কারণ দর্শানো নোটিশের মতো ব্যবস্থা রয়েছে। এরমধ্যে ঢাকার দেওয়ানি আদালতে মামলা করে রবি। আর এটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পাওনা আদায়ে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করে তারা। নিম্ন আদালত রবির এই আবেদন আবেদন খারিজ করে দেন। এরপর অপারেটরটির এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে রবি, যার রায় কয়েকবার পিছিয়ে ৫ জানুয়ারি হয়।

অডিট আপত্তির একই ইস্যু রয়েছে জিপির। দুটি অপারেটরেরই মামলা-মকদ্দমাসহ নানা ইস্যুর এসব জটিলতার মধ্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালও বিষয়টি সুরাহার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো সুরাহা না হলে সবশেষে জিপি-রবিতে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নেয়া হয়েছিল।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানান, ‘বাংলাদেশের জনগণের পাওনা টাকা যে রবি দিতে শুরু করেছে এ জন্য তাদের অভিনন্দন। আশাকরি তারা আদালতের নির্দেশ পরিপূর্ণভাবে পালন করবে।’

তিনি বলেন, ‘তাদের সুযোগ আছে। এখন ইন্ডাস্ট্রি ফ্রেন্ডলি সরকার রয়েছে। টেলিকম পলিসি, এমএনপি সুবিধা, এসএমপিসহ অন্যান্য নীতিমালা রবি ও অন্যান্য ছোট অপারেটরদের অধিকার ও ন্যায় নিশ্চিত করবে। ফলে তাদের সুযোগ অনেক বেশি। তারা যদি সঠিকভাবে দেশের আইন মেনে ব্যবসা করে তাহলে তাদেরই সুবিধা হবে’ বলছিলেন মন্ত্রী।

পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর