ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ৪ পৌষ ১৪২৬

ফার্মগেটের সেই আলোচিত ভিডিও নিয়ে মুখ খুলল শিক্ষার্থী

http://www.pbd.news/selected/74662/ফার্মগেটের-সেই-আলোচিত-ভিডিও-নিয়ে-মুখ-খুলল-শিক্ষার্থী
BYপূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রকাশ:  ১১ অক্টোবর ২০১৮, ২০:৫৬ | আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৮, ২১:০৫

অনেক অনেক "শিক্ষিত" এবং "সভ্য" মানুষ প্রশ্ন তুলছেন ভিডিওটির ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে। সে কারণে এই লেখাটুকু এড করতে বাধ্য হওয়া৷ কারণ আমি না কল্পনাও করিনি এই ভিডিও এর কাহিনীটাও আমার বর্ণনা করতে হবে, Because the video itself says it all.

আমি সঠিক জানিনা পাবলিক ট্রান্সপোর্টে এত এত সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট, ধর্ষণ, এমনকি ধর্ষণের পর খুন হবার পর ও মানুষ কিভাবে মেয়েটার দিকে আগুল তোলে।

বলি তাদের ঘরের মেয়েরা কি পাবলিক বাসে চলেন না, তাদের কি এরকম পরিস্থিতি হয় না? আমাদের দেশটা তো সুপুরুষে ভরা, এদেশে ধর্ষণ হলে ভিকটিমের চারিত্রিক সার্টিফিকেট এই সুপুরুষদের কাছে সত্যায়িত করতে দিতে হয় এবং যেহেতু এসব সুপুরুষদের কাছে ধর্ষণ বা যৌনহয়রানির একমাত্র সমাধান - "Kanke mage hegab koe", সেহেতু আমি মূল ঘটনাটি তুলে ধরছি।

ঘটনাটি ঘটে আজ সকাল ঠিক ১০টার দিকে দিশারী বাসে - শ্যামলী থেকে লক্ষ্য করছিলাম আমার থেকে দুই সিট সামনের কলেজ ড্রেস পড়া মেয়েটা রাগান্বিত ভাবে বার বার পেছন ফিরে আমার সামনের লোকটাকে কিছু বলছে, একবার শুনলাম "হাত সরান"।

আমি মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলাম কোন প্রবলেম কিনা, সে জানালো পরে বলবে। তারপর বাস ফার্মগেটে তার কলেজের সামনে আসার পর মেয়েটা ঘুরে লোকটাকে ধমকানো শুরু করলো, তখন তার কথায় বোঝা গেল যে লোকটা নাকি ৫/৬ বার সিটের ফাঁকা গলে তার গায়ে হাত দেবার চেষ্টা করেছে। সে এতক্ষণ অপেক্ষা করছিল তার কলেজের এরিয়াতে আসার, তারপর সে রিয়েক্ট করেছে। লোকটা সর‍্যি বলা শুরু করলো।

বাসের পাবলিক যথারীতি "ছেড়ে দাও মা", "সর‍্যি বলসে তো" বলে তাদের ট্রাডিশনাল ঘ্যান ঘ্যান শুরু করে দিল। তখন বাসে আমি মেয়েটার হয়ে প্রতিবাদ করলাম এবং তাদেরকে বললাম মেয়েটা যা করছে তাকে করতে দেন।

আমার সাথে আরো কিছু আংকেলের বয়সী লোক তাল মেলালেন , "হ্যা সর‍্যি বললেই তো হবে না, বাস থেকে নামেন।" তারপর মেয়েটা কাউকে তোয়াক্কা না করে লোকটাকে মারতে লাগল, এবং সাথে সাথে পুরো বাস ঠান্ডা। তারপর দেখলাম সবাই বেশ মেয়েটার পক্ষে কথা বলছে আর লোকটাকেও চড় থাপ্পড় দিচ্ছে। বলতেই হবে শুরুতে দুর্বলচিত্তের কিছু লোক বাঁধা দিলেও আসলে বাস ভর্তি "মানুষ" ছিল, ওই জানোয়ারটার মত পটেনশিয়াল রেপিস্ট ছিল না। আর লোকটা দুর্বল গলায় একটা কথাই বলছিল, "আপু আপনি আমাকে বলতে পারতেন আমি হাত সরাই নিতাম।" এ কথা বলার পর মাইর আরো কয়টা বেশি খাইসে সে। তারপর আবার এটাও বলার ট্রাই করেছে যে সে নাকি ঘুমিয়ে ছিল, কই হাত গেসে টের পায়নি, যেটা ভিডিওতেও আপনারা দেখছেন বা শুনতে পাচ্ছেন। এবং তাকে বাস থেকে নামিয়ে দেবার পর সে ফার্মগেটের ফুটপাতে যে আমড়া ওয়ালা থাকে সেখানে গিয়ে আমড়া খেতে শুরু করলো, এত বড় পাবলিক শেইম, পাবলিকের মাইর খেয়ে বাস থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেওয়া এসব যেন কিছুই ঘটেনি।

সে নির্দোষ হয়ে থাকলে এত স্বাভাবিকভাবে নিতে পারতো কি পুরো ঘটনাটা? নির্বিকার ভাবে আমড়া চিবুতে পারতো? এই দৃশ্য দেখে বাসের সবাই লোকটাকে ড্রাগ এডিক্ট বলে মন্তব্য করছিল। যারা লোকটাকে ইনোসেন্ট ভাবছেন তাদের কাছে প্রশ্ন, এই পার্ভার্টটা তো আপনার বোনের গায়েও হাত দিতে পারত। আপনি পারতেন আপনার বোনের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলতে? পারতেন ওই বিকৃত মস্তিষ্কের লোকের হয়ে বিনা স্যালারিতে সাফাই গাইতে?

Let there be light. এবং সুপ্রভাত।

(জেবা সাজিদা মৌ এর ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংগৃহীত)