ঢাকা, সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

নওগাঁয় ইট ভাটার ধোঁয়ায় শত শত বিঘা জমির ধান নষ্ট

http://www.pbd.news/whole-country/46864/নওগাঁয়-ইট-ভাটার-ধোঁয়ায়-শত-শত-বিঘা-জমির-ধান-নষ্ট
BYনওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ:  ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:৩১

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের মল্লিকপুর ও শ্রীরামপুর মাঠে একটি ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাস ও ধোঁয়ায় শতাধিক বিঘা জমির বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা গত শনিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি ফসলি মাঠে স্থাপিত ইটভাটাটি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি তদন্তে পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন ইউএনও। এদিকে এ ঘটনা জানার পর গত রোববার বিকেলে ক্ষতিগ্রস্থ মাঠ পরিদর্শন করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক। মন্ত্রী এ বিষয়ে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। এ সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁর উপ-পরিচালক মনোজিৎ কুমার মল্লিক, মান্দার ইউএনও খন্দকার মুশফিকুর রহমানসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনা তদন্তে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় সাংসদ মাননীয় পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী অবগত রয়েছেন। এ বিষয়ে খুব শিঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কৃষকেরা জানান, খেতের বোরো ধান পাক ধরেছিল। আর ১৫-২০ দিন পরেই মাঠের অনেক খেতে ধান কাটা হতো। গত ১২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) রাতে শ্রীরামপুর ও মল্লিকপুর গ্রামের মানুষ হঠাৎ প্রচণ্ড গরম অনুভব করেন। ভয়ে অনেকে ঘরের বাইরে এসে পরিস্থিতি দেখে ভয় পেয়ে যান। প্রচণ্ড গরম আর গন্ধের কারণে অনেকে বমি পর্যন্ত করেন। পরে তাঁরা বুঝতে পারেন শ্রীরামপুর মৌজায় ফসলি জমিতে অবস্থিত পিএমবি ব্রিকস নামের ইটভাটা থেকে একসঙ্গে গ্যাস ও ধোঁয়া ছেড়ে দেওয়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পরের দিন সকালে কৃষকেরা খেতে গিয়ে দেখেন, শ্রীরামপুর ও মল্লিকপুর গ্রামের ফসলের মাঠে বোরো খেতের ধান ঝলসে গেছে। দুই মাঠে ১২০ থেকে ১৩০ বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ইটভাটার গ্যাসে শ্রীরামপুর ও মল্লিকপুর মাঠে তাঁদের চাষ করা বোরো ধানের খেতগুলো পুড়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে। যেখানে বিঘা প্রতি ২০ থেকে ৩০ মণ পর্যন্ত ধান পাওয়া যেত, সেখানে এখন দুই-তিন মণ ধান পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

শ্রীরামপুর গ্রামের কৃষক হাছেন আলী ও আবুল কাসেম বলেন, ‘শুধু আমন ও বোরো ধানের খেতই নয় ভাটার গ্যাসে নষ্ট হয়ে গেছে আশপাশের গ্রামের মৌসুমি ফল আমের গুটি। আম গাছে ধরা আমের গুটিগুলো কালচে হয়ে আস্তে আস্তে পচন ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

ইটভাটার মালিক গুলবর রহমান বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ করছি। যাঁর যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে দেওয়া হবে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক জানান, কৃষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষনিক পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান ব্রজেন্দ্রনাথ সাহাকে এসব কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটিতে তিনি সদস্য সচিব রয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই শ্রীরামপুর ও মল্লিকপুর মাঠে বোরো খেতের ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দুই-একদিনের মধ্যেই জমা দেওয়া হবে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁর উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন, ‘মাটি পুড়িয়ে ইট তৈরির সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাসের সঙ্গে ফ্লোরিন গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এই ফ্লোরিন গ্যাস বিষাক্ত এবং তা ফসল, ফল ও ফুলের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর। এ ছাড়া ইটভাটা ধোঁয়ার সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ও নাইট্রোজেনের অক্সাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস উৎপন্ন হয়। যা ফসল ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর। এজন্য পরিবেশ নীতিতে ফসলি জমি ও বসতবাড়ির আশপাশে ইটভাটা নির্মাণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’

ওএফ