ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৬
BYকুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ:  ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:০৬

কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার সরকারি হাসপাতালে সিভিল সার্জনের আকষ্মিক ভাবে অভিযান চালিয়ে প্রসূতির নবজাতককে দ্বিখন্ডিত করার ঘটনায় দুইজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও হাসপাতালে অনুপস্থিতির জন্য দুইজন ডাক্তারকে শোকজ করা হয়েছে।

RELATED NEWS

সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বার সরকারি হাসপাতালে প্রসূতির নবজাতককে দ্বিখন্ডিত করার ঘটনায় আয়া জেসমিন আক্তার ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন মোসা. শিরিনা আক্তারকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার হাসপাতালে দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিতির জন্য মেডিক্যাল অফিসার মেডিক্যাল অফিসার ডা. আহসানুল হক মিলু ও ডা. নীলা পারভীনসহ দুজনকে শোকজ করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহমেদ কবীর জানান, সিভিল সার্জন মহোদয় প্রসূতির ঘটনায় খোজখবর নিতে হাসপাতালে এসে দেখেন যথা সময়ে দুই ডাক্তার ডা. আহসানুল হক মিলু ও ডা. নীলা পারভীনকে কর্মস্থলে উপস্থিত না পেয়ে তাদেরকে শোকজ করা হয়েছে। অপরদিকে প্রসূতির ঘটনা তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত যে তারা দায়িত্ব অবহেলা করার কারণে আয়া জেসমিন আক্তার ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন মোসা. শিরিনা আক্তারকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রসূতি’র বিষয়ে জানাতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত চলছে তদন্ত শেষ হলে পরিপূর্ণ বলা যাবে।

এবিষয়ে কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, প্রসূতির ঘটনার তদন্তে কমিটির সিদ্ধান্ত যে তারা দায়িত্ব অবহেলা করার কারণে আয়া জেসমিন আক্তার ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন মোসা. শিরিনা আক্তারকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। অপরদিকে ডা. আহসানুল হক মিলু ও ডা. নীলা পারভীন কে কর্মস্থলে না পেয়ে দুইজনকে শোকজ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের রিকশাচালক সেলিম মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য শনিবার বিকাল পৌনে ৩টার দিকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপপ্লেক্স মেডিক্যাল অফিসার ডা. নীলা পারভীনের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রসব বেদনা থাকলেও কোন চিকিৎসক না থাকায় সন্তান প্রসবের উদ্যোগ না নেওয়ায়। হাসপাতালের নার্স আছিয়া ও ঝর্না রোগীর স্বজনদের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের জন্য বাইরের দোকান থেকে ওষুধপত্র ক্রয় করান।

পরবর্তীতে প্রসব বেদনায় প্রসূতি হাসপাতালে কাতরালেও সময়মত ওই হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার ব্যবস্থা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। একপর্যায়ে ওই রাত সাড়ে ১১টার দিকে নার্স আছিয়া, ঝর্না ও আয়া জেসমিন মিলে ফাতেমার গর্ভের সন্তানের পা এবং হাত ধরে টানাটানি শুরু করলে হাত-পাসহ অর্ধেকাংশ ছিড়ে প্রসূতির পেট থেকে বেরিয়ে আসে এবং মাথা ছিড়ে পেটে থেকে যায়।

এ অবস্থায় প্রসূতির জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে গভীর রাতে প্রসূতিকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। টেনে ছিড়ে বের করা হাত ও পা তা হাসপাতালে পাশের ডাস্টবিনে লুকানোর চেষ্টা কালে রোগীর স্বজনদের নজরে আসে। রবিবার কুমেক হাসপাতালে অপারেশন করে প্রসূতির পেটে থাকা সন্তানের মাথাসহ অর্ধেকাংশ বের করে আনা হয়। বর্তমানে ওই প্রসূতি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর যন্ত্রণা নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ওএফ