ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

বাচ্চার কান্না থামাতে যাত্রীর শিশুকে মাঝ আকাশে স্তন্যপান করালেন বিমানবালা

http://www.somoyerkonthosor.com/2018/11/13/295788.htm
Posted on November 13, 2018

চিত্র-বিচিত্র ডেস্ক :: ফিলিপিন্সের এক বিমানসেবিকা সকলের মন কেড়ে নিয়েছেন৷ সকলের মুখে মুখে সাধুবাদ ঘুরছে৷ কারণ ওই বিমানসেবিকা মাঝ আকাশে স্তন্যপান করালেন এক শিশুকে৷

ফিলিপিন্সের ডোমেস্টিক বিমানটিতে ভোরবেলা ডিউটিতে ছিলেন ওই বিমানসেবিকা৷ বিমান আকাশে ওড়ার পর ২৪ বছরের বিমানসেবিকা পাত্রিশা অরগ্যানো শুনতে পান একটি শিশু ক্রমাগত কেঁদে চলেছে৷ সেই সময় তিনি সেই শিশুর মায়ের কাছে গিয়ে বলেন শিশুটি কাঁদছে কেন? শিশুটির মা জানান শিশুটির ফরমুলা মিল্ক শেষ হয়ে গিয়েছে৷ তাঁর স্তনে দুধ নেই৷ শিশুটি খিদে পেয়েছে বলেই কান্নাকাটি করছে।

এক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, এরপরই পাত্রিশা শিশুটিকে কোলে নিয়ে স্তন্যপান করান৷ এমন ঘটনার পরই পাত্রিশা সকলের ভালবাসা অর্জন করে নিয়েছেন৷ তিনি তাঁর ফেসবুক পোস্টে জানান “আমি প্রস্তাব দিই৷ ওই শিশুটির মা কে জিজ্ঞাসা করি যদি আপনার ঠিক মনে হয় তাহলে আমি চেষ্টা করে দেখতে পারি৷ দেখি শিশুর ক্ষুধার্ত কান্না থামাতে পারি কিনা৷ আপনি যদি অনুমতি দেন আমি স্তন পান করাব৷ এরপরই কান্না ভেজা চোখে তার মা বলেন তাঁর স্তনে দুধ আসছেনা৷

ন’মাস বয়সের এক শিশুর মা পাত্রিশা জানান তিনি ওই শিশুটির মায়ের কষ্ট উপলব্ধি করতে পারেন৷ শিশুদের পান যোগ্য ফরমুলা মিল্ক বিমানে থাকেনা৷ তাই আমার কাছে একমাত্র উপায় ছিল আমার নিজের স্তন-দুগ্ধ৷ তাই আমি তাঁকে সেটি দেওয়ার প্রস্তাব দিই৷

তিনি আরও জানান, আমি তাঁর মায়ের চোখে প্রশান্তি দেখেছি৷ আমি ওই শিশুটিকে অনেকক্ষণ ধরে স্তন্যপান করাই৷ এর পর সে ধীরে ধীরে ঘুমিয়ে পড়ে৷ এরপর আমি তাকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিই৷ চলে আসার আগে শিশুটির মা আমাকে ধন্যবাদ দেন৷ তাঁর ফেসবুক পোস্টে এমনই মর্মস্পর্শী কথাগুলি লেখেন পাত্রিশা৷

এমন পোস্ট ফেসবুকে আসতেই দ্রুত শেয়ার হতে শুরু করে৷ ভাইরাল হয়ে যায় পাত্রিশার পোস্টটি৷ দেশে বিদেশে ছড়িয়ে যেতে থাকে৷ এয়ার হস্টেসের ওই নিঃস্বার্থ কাজের কথা লেখা পোস্টটি ৩৬ হাজার মানুষ শেয়ার করেছেন তাঁদের নিজস্ব ফেসবুক পেজে ও সেই পোস্টকে ঘিরে ৮০০০ কমেন্ট রয়েছে৷ কেউ লিখেছেন “আপনি যেটা করেছেন সেটা মনুষ্যত্বের এক সুন্দর উদাহরণ৷ অনেকেই লিখেছেন  খুব সুন্দর ও অতুলনীয়৷ ভগবান আপনার মঙ্গল করুন৷

চলতি বছরেই আর্জেন্টিনার এক মহিলা পুলিশ অফিসারও ডিউটিতে থাকার সময় এক ম্যাল নিউট্রিশনে ভোগা শিশুকে স্তন পান করিয়ে ভাইরাল হয়েছিলেন৷ সেসময় তিনি একটি শিশু হাসপাতালে ডিউটিতে ছিলেন৷