ঢাকা, শনিবার, ২৬ মে ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
BY  অনলাইন ডেস্ক ২০ মার্চ ২০১৮, ০৯:০০ | আপডেট : ১৭ মে ২০১৮, ০৯:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

পড়াশোনা, অফিসের কাজে কিংবা ফেসবুক-ইউটিউবে একটু ঘাঁটাঘাঁটি, এসব নিয়ে আজকাল অনেকেই গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন। রাতজাগা এসব মানুষগুলো দিনের শেষ খাবারটি সাধারণত বেশ দেরিতে খান। এক্ষেত্রে অনেকেরই মনে হতে পারে—খেলামই না হয় একটু দেরি করে, ক্ষতি কী? বিষয়টি কিন্তু মোটেও হেলাফেলার নয়। রাতের খাবার ও সময় নিয়ে খুবই সচেতন থাকতে বলেছেন চিকিৎসাবিদরা।

রাতে অতিরিক্ত দেরিতে এবং সুনির্দিষ্ট কিছু খাবার খেলে তা নানা স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য দায়ী বলে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, দিনে বিশেষ করে দুপুর এবং সন্ধ্যার নাস্তায় ক্যালরি গ্রহণে ভারসাম্য রাখতে হয়। এতে কাজ করার শক্তি বাড়ে, ক্ষুধা কম লাগে এবং সর্বোপরি ভালো থাকা সম্ভব হয়। তা না হলে স্বাস্থ্যক্ষতি অনিবার্য।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, রাতের খাবার দেরিতে খেতে চাইলে সমস্যা নেই। তবে সেক্ষেত্রে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার বিশেষ করে শস্যদানা, ফলমূল এবং শাকসবজি প্রভৃতি নির্বাচন করা উচিত।

রাতে দেরিতে চর্বিযুক্ত এবং বেশি মসলাযুক্ত খাবার খেলে শরীরে কী প্রভাব পড়ে তা জানিয়ে দিচ্ছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট লাইফস্ট্রং ডটকম।

ঘুমের সমস্যা

সন্ধ্যায় ক্ষুধা পেলে যদি পুষ্টিকর নাস্তা খেয়ে নেন, সেটি আপনাকে রাতে ভালো ঘুমাতে সাহায্য করবে। রাতে ক্ষুধা লাগলে দুধের সঙ্গে ওটমিল খেয়ে নিন। তাতেও আপনার ভালো ঘুম আসবে। তবে রাতে ভারী খাবার এবং অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করুন। একই সঙ্গে রাতে তরলজাতীয় খাবারও পরিহার করা উচিত। তা না হলে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া চকলেট, কফি, পানীয় জাতীয় খাবারও রাতের ঘুমে বিঘ্ন ঘটায়। এর ফলে সারাদিন ঝিমুনিতেই কেটে যায়।

ওজন বাড়ে

রাতে দেরিতে খাবার খেলে তা সরাসরি ওজন বাড়াতে ভূমিকা রাখে না। তবে সুনির্দিষ্ট কিছু খাবার আছে যেগুলো ওজন বাড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, কেউ কেউ সন্ধ্যায় আইসক্রিম এবং চিপস খেয়ে থাকেন। এসব খাবারে পুষ্টি কম থাকে এবং এসব খাওয়ার ফলে ক্যালরি গ্রহণের চাহিদা আরও বেড়ে যায়। এর ফলে ওজনও বাড়ে। তবে অসুস্থ কিংবা চিকিৎসা সেবা নেওয়ার সময় যদি আপনার ক্ষুধা লাগে তাহলে রাতে বার বার খেতে কোনো বাধা নেই। তবে সেক্ষেত্রে রাতের খাবারে বাদাম, পনির রাখুন।

বুক জ্বালাপোড়া এবং গ্যাসের সমস্যা

আজকাল গ্যাসের সমস্যা খুবই সাধারণ একটি ব্যাপার। এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করলে বুক জ্বালাপোড়া করে। আবার পেটের নানা সমস্যা সৃষ্টির জন্যও দায়ী এই গ্যাস। ন্যাশনাল ডাইজেসটিভ ডিজিসেস ইনফরমেশন ক্লিয়ারিংহাউস অনুযায়ী, রাতে খাওয়ার পরপরই ঘুমালে গ্যাসের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। এ ছাড়া অতিরিক্ত খাবার কিংবা অত্যধিক চর্বি ও মসলাযুক্ত খাবার বিশেষত টমেটোর তৈরি যে কোনো খাবার রাতে খেলে ঝুঁকি বাড়ে। এ কারণে রাতে এসব খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।